


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আমিষ রান্না করতে গ্যাস পোড়ে এক ঘণ্টা। নিরামিষ রান্না হয়ে যায় দশ মিনিটে!’ —গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই এই বার্তা ছড়িয়েছে সমাজ মাধ্যমে। কিন্তু, এর পিছনে কি রাজনৈতিক মতলব কিংবা অন্য কোনো অভিসন্ধি রয়েছে? কারণ, সমাজ মাধ্যমের কিছু বেনামি (যেমন ‘গেরুয়া ঝড়’ কিংবা ‘বাংলায় নতুন আলো’) অ্যাকাউন্ট থেকে এই ধরনের প্রচার চলছে। তাই গ্যাস সংকটের সুযোগে বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এইভাবে গেরুয়া হস্তক্ষেপের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল।
ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে খাদ্যাভ্যাসের উপর গেরুয়া ফতোয়ার বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এরাজ্যে মানুষের মৌলিক অধিকার কোনোভাবেই খর্ব হতে দেবেন না তিনি, জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘ধর্ম থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাসের মতো ইস্যুতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ওদের জুড়ি নেই। কিন্তু, বাংলায় এটা করতে গিয়ে আগেই বেগ পেতে হয়েছে ওদের। সেই কারণে সমাজ মাধ্যমে একাধিক বেনামি অ্যাকাউন্টের আড়ালে মানুষকে ওরা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। খাদ্যাভ্যাসের সুড়সুড়ি দিয়ে মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা হচ্ছে।’
কিন্তু সমাজ মাধ্যমে ছড়ানো বার্তায় কী বলা হচ্ছে? একাধিক পোস্টের মূল বক্তব্য হল, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বা কেন্দ্রীয় নীতি নয়, গ্যাস সংকটের মূলে মানুষের খাদ্যাভ্যাস! প্রচার করা হচ্ছে, ‘ভাতে সবজি দিয়ে সেদ্ধ করে নিলে, মাত্র দশ মিনিটেই রান্না হয়ে যায়। আর ফল, দুধ, দই খেলে নিরীহ পশুকে হত্যা করার প্রয়োজন পড়ে না। মাছ-মাংস খেয়ে শুধু নিজের ধর্ম-সংস্কৃতিকেই নয়, মানুষ সংকটে ফেলছে প্রকৃতি আর দেশের অর্থনীতিকেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পোস্টগুলিতে শুধু খাদ্যাভ্যাসের কথা বলা হলে কোনো সমস্যা ছিল না। এখানে ধর্মের কথা বলায়, সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ থাকছে।