নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: সন্ধ্যা হলেই কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায় রাজার শহর। অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাগরদিঘি। বড় রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিছু উচ্চ বাতিস্তম্ভ থাকলেও শহরের বহু রাস্তাতেই নেই পর্যাপ্ত পথবাতি। এজন্য অবশ্য পুরসভার গাফিলতিকেই দুষছেন প্রশাসনের কর্তাদের একাংশ। একই সঙ্গে তাঁদের যুক্তি, হেরিটেজ ফান্ড না থাকায় নতুন পথবাতি বসানো এবং পুরানো পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা যাচ্ছে না।
কোচবিহার হেরিটেজ শহর। অথচ এই শহরেই রাতে পর্যাপ্ত আলো থাকে না। সমস্যার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন প্রশাসনের এক কর্তা। তিনি বলেন, শুধু শহরের রাস্তাঘাটই নয়, আমার অফিসের একাংশও সন্ধ্যার পর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
কোচবিহার শহরের মতো পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা ভারতবর্ষের হাতেগোনা শহরেই রয়েছে। কিন্তু সেই রাজার শহরেই কেন এই বেহাল পরিস্থিতি। কেন রাজার স্বপ্নের শহর সন্ধ্যার পর কার্যত অন্ধকারে ডুবে থাকে। কেন এই শহরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে, অলিতে গলিতে পর্যাপ্ত পথবাতি নেই। এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রশাসনের ওই আধিকারিক বলেন, প্রশাসনের তরফে পুরসভাকে বহুবার পর্যাপ্ত পথবাতি বসানোর কথা বলা হয়েছে। যতদূর জানতে পেরেছি, ফান্ডের একটা সমস্যা আছে।
সাগরদিঘির চারপাশ দিয়ে প্রশাসনের প্রায় সমস্ত দপ্তরের অফিস। এখানে সৌন্দর্যায়নের জন্য প্রচুর সুন্দর সুন্দর পথবাতি বসানো আছে। যারমধ্যে অনেক বাতি নিয়মিত জ্বলে না। রাতের দিকে শহরের সবচেয়ে বড় বাজার ভবানীগঞ্জ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে।
সন্ধ্যাবেলা শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মোড় থেকে পুলিশ লাইন মোড় যাওয়ার রাস্তার মাঝে অসংখ্য পথবাতি রয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যার পর কোনটাতেই আলো জ্বলতে দেখা যায় না। মেডিকেল মোড়ের দোকানপাট থাকায় কিছুটা আলো দেখা যায়। এই রাস্তার উপর থাকা বড় পোস্ট অফিস, এবিএন শীল কলেজ হোস্টেল, এনবিএসটিসির ডিপোর সামনে কোন আলো নেই বললেই চলে।