


নিজস্ব প্রতিনিধি কোচবিহার: কোচবিহার রাসমেলা মাঠ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের প্রচার শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ৫ এপ্রিল এই জনসভা। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার মোট ১৩টি বিধানসভা নিয়ে এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাসমেলা মাঠ পরিদর্শন করে। এরপর তাঁরা সাংগঠনিক সভায় যোগদান করেন। মোদির সভায় দেড় লক্ষ মানুষের জমায়েতের টার্গেট নিয়ে ঝাঁপাচ্ছে পদ্ম বাহিনী।
কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রটি কোচবিহার শহরে। এখানেই আসছেন মোদি। বিজেপি এখানে প্রার্থীর নাম অনেকটাই দেরিতে ঘোষণা করেছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে কিছুটা দেরিতে প্রচার শুরু করতে হয়েছে এই আসনের গেরুয়া প্রার্থীকে। অন্যদিকে, সিতাই ও নাটাবাড়ি কেন্দ্রে এখনও প্রার্থীর নামই ঘোষণা করতে পারেনি দল। এই পরিস্থিতিতে খানিকটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছে দলের জেলা নেতৃত্ব। অপরদিকে, গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন বিজেপিকে সমর্থন করায় তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনাও করেছে। তবে সেই আসন বণ্টনপর্ব শেষ হয়নি। সব মিলিয়ে কার্যত অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে দল। এই আবহেই কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা।
ভোট ঘোষণার আগে কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানেই সভা করে গিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতির নবীন। আশানুরূপ লোক জমায়েত না হওয়ায় সেই সভা কার্যত ফ্লপ হয়েছিল। এবার এসআইআর আবহে খোদ প্রধানমন্ত্রীর জনসভা। এমন অবস্থায় লোক জোটানো বিজেপির কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ বিধানসভা বাদে বাকি আটটি বিধানসভা ও আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে এই জনসভা হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিজেপি কত লোক জমায়েত করতে পারে, সেদিকে তাকিয়ে থাকবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলি।
বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, আগামী ৫ এপ্রিল রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা হবে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের প্রচারে তিনি কোচবিহারে আসছেন। এদিন আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি। দলের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত মঙ্গল পান্ডে সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ছিলেন। আমাদের টার্গেট দেড় লক্ষ মানুষকে জনসভায় নিয়ে আসা। কোচবিহার থেকেই পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তন শুরু হবে।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কোচবিহারের জয়ী আসনটি হাতছাড়া হয়। এরপর থেকে কোচবিহারে গেরুয়া সংগঠন ধস নামতে শুরু করে। এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার দু’দিনের মাথায় তৃণমূল রাজ্যের সব আসনের প্রার্থীর নাম জানিয়ে দেয়। কোচবিহারের ন’টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম প্রকাশ হওয়ায় সেদিন থেকেই কোমর বেঁধে প্রচারে নেমে পড়ে তৃণমূল। সেখানে বিজেপি দু’দফায় নাম ঘোষণা করলেও এখনও সবক’টি আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশই করতে পারেনি। তারই মাঝে প্রধানমন্ত্রীর হাই ভোল্টেজ সভা। সেই সভায় মোদি কি বার্তা দেন, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার বিজেপির নেতা-কর্মীরা। • নিজস্ব চিত্র।