Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীর রাস্তা ফেরত চাওয়া ঘিরে বিতর্ক, মুখ্যমন্ত্রীকে পালটা আবেদন

শান্তিনিকেতনের পোস্ট অফিস মোড় থেকে উপাসনা গৃহের সামনে দিয়ে কালীসায়ের পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তা ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চেয়ে রাজ্যের কাছে আবেদন করেছে বিশ্বভারতী।

বিশ্বভারতীর রাস্তা ফেরত চাওয়া ঘিরে বিতর্ক, মুখ্যমন্ত্রীকে পালটা আবেদন
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর : শান্তিনিকেতনের পোস্ট অফিস মোড় থেকে উপাসনা গৃহের সামনে দিয়ে কালীসায়ের পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তা ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চেয়ে রাজ্যের কাছে আবেদন করেছে বিশ্বভারতী। বিশ্বভারতীর দাবি, এই রাস্তা দিয়ে দিনরাত ভারি যানবাহন চলাচল, লাগাতার হর্ন ও দীর্ঘক্ষণ যানজটের কারণে আশ্রম এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের মাধ্যমে সেই আবেদন নতুন করে করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার ইমেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি দিয়েছেন শান্তিনিকেতনেরই স্থায়ী বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, রাস্তা রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রাখা হোক। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বা মেসেজে পাওয়া যায়নি। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, রাস্তার দু'পাশে রয়েছে উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন গৃহ, ছাতিমতলা, রবীন্দ্রভবন, কলাভবন, সঙ্গীতভবন, শিক্ষাভবন সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থান। ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার রাস্তার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দিয়েছিল। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রমিকদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালে বীরভূম সফরে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তা ফের রাজ্য সরকারের অধীনে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন। 
এরপর ২০২৩ সালে তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ওই রাস্তা পুনরায় বিশ্বভারতীর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে দু’টি চিঠি পাঠান। যদিও সেই আবেদনের কোনো সাড়া রাজ্যের তরফে মেলেনি। পরে শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরও দিলীপবাবু ফের একই দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন।   এই ঘটনায় অনেকেরই মনে পড়েছে প্রায় তিন বছর আগের একই বিতর্কের কথা। তখনও বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে রাস্তা ফেরত চেয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পালটা আশ্রমিক, অধ্যাপক, প্রাক্তনী ও ব্যবসায়ীদের একাংশও আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে সেই দাবি গ্রহণ না করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাকে সেই বিতর্কেরই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে বিশ্বভারতীর সাম্প্রতিক আবেদনের পর শান্তিনিকেতনের একাংশের আশ্রমিক, প্রাক্তনী ও স্থায়ী বাসিন্দারা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। চিঠিতে তাঁরা জানিয়েছেন, শান্তিনিকেতন আশ্রমের কোর এলাকার বসবাসকারী মানুষেরা এই প্রস্তাবের বিরোধী। তাঁদের আবেদন, বিশ্বভারতীর রাস্তা যেন সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকে। সেই সঙ্গে কেন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হচ্ছে, তারও একাধিক কারণ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবীণ আশ্রমিক সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটি একটি শতাব্দী প্রাচীন রাস্তা। বিশ্বভারতী আবার সেটি নিজেদের অধীনে আনার চেষ্টা করছে। আমাদের দাবি, সরকারি রাস্তা সরকার নিয়ন্ত্রণ করুক। এতে কোনো সমস্যা হলে আমরা সরকার বা জনপ্রতিনিধির কাছে যেতে পারি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ