নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোটের মাত্র দু’দিন আগে বালিতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া এবং সেই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের ভূমিকা, দু’টি ঘটনাকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাল তৃণমূল। দলের অভিযোগ, কমিশনের ‘অতি সক্রিয়তা’র আড়ালে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই রাতের অন্ধকারে বেছে বেছে তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের বাড়িতে হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বালিতে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র দাবি করেন, রাজ্যে আসা পর্যবেক্ষকদের নির্দেশে পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তাঁর অভিযোগ, সোমবার রাতে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে মারধর, এমনকি মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়েছে। কৈলাশের মন্তব্য, ‘বুথে যাদের দায়িত্বে থাকার কথা, সেই এজেন্টদেরই তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে ভোটের দিন সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে’। তৃণমূলের দাবি, একই সময়ে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশি মদতে বাইরে থেকে লোক এনে বালির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ঢোকানো হয়েছে। বরং বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংয়ের গাড়ি আটকানোর ঘটনায় উলটে তৃণমূল কর্মীদেরই নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি। কৈলাশের কথায়, ‘নগদ টাকা ও বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় গাড়ি ঢোকায় আমাদের কর্মীরা প্রতিবাদ করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের না শুনে রাতভর ধরপাকড় চালায়।’ এই ঘটনার প্রতিবাদে মাঝরাতে রাস্তায় নেমে সরাসরি পুলিশ কনভয়ের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূল প্রার্থী নিজে। পরে পুলিশ ধৃতদের নিয়ে এলাকা ছাড়ে। হাওড়া সিটি পুলিশের দাবি, সোমবার রাতে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাকে সামনে রেখে তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখতে কমিশন-প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। যদিও এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৈলাশ। তাঁর দাবি, ‘বালির মানুষ সবটা দেখছে। এবার মানুষই ভোটবাক্সে এর জবাব দেবেন।’