নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: তিনি রাজ্যের পুরমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম গঠিত হওয়া বিজেপি সরকারের একেবারে প্রথম সারির মন্ত্রীও। এহেন গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি হয়েও রাজ্যে চলা ডিম ছুঁড়ে মারার সংস্কৃতিতে ঘৃতাহুতির মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন অগ্নিমিত্রা পল। সোমবার তিনি বার্নপুরের ত্রিবেণী মোড়ে জলকল্যাণ শিবিরে হাজির হয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে সংবাদ মাধ্যমে অগ্নিমিত্রা বলেন, দেশে ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্র চলছে। বাংলায় এখন ‘ডিমোক্রেসি’ চলছে। ডিমের দোকানে দু’রকমের ডিম বিক্রি হচ্ছে। খাওয়ার ডিম ও ছুড়ে মারার ডিম। মারার ডিমের দাম বেশি। এর জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ির বোনেটে উঠে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ডিজে বাজানোর কথা বলবেন আর মানুষ ছেড়ে দেবে? মানুষ এখন ডিম দিয়ে ডিজে বাজাচ্ছে। আসানসোলেও এই ‘ডিমোক্রেসি’ শুরু হতে চলেছে। কারণ আসানসোলে ডিমের দোকানও কম নেই, আর ১৫ বছর ধরে অত্যাচার করা মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
তিনি আরও বলেন, ডিম ছোড়ার অধিকার মানুষের আছে। ১৫ বছর যা অত্যাচার করেছেন, তার তুলনায় অনেক কমই হচ্ছে। ওঁরা তো বোমা মারতেন। এরা ডিম মারছেন। বোম তো মারেনি।
তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একজন মন্ত্রী হয়ে ডিম ছোড়াকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, আসানসোল যখন অন্য এলাকার তুলনায় শান্ত রয়েছে। তখন এই কথা বলার পর যদি আসানসোল উত্তপ্ত হয়, তার দায় কে নেবে? সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, মন্ত্রীর অধিকার দেওয়ারও একটা সাংবিধানিক বোধ থাকা প্রয়োজন। পুলিশের গায়েও তো ডিম পড়ছে। তার দায় কে নেবে? মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, পুলিশের গায়ে হাত পড়লে তিনি ছেড়ে কথা বললেন না। আর এটা কী হচ্ছে?। আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি মলয় ঘটক বলেন, ডিম কেন, কাউকে লক্ষ্য করে ফুল ছুড়লেও তাঁর অনুমতি নিতে হয়। বাংলায় এই সংস্কৃতি ছিল না। মানুষ এটা করছে না, করানো হচ্ছে। আগামী দিনে মানুষই এর জবাব দেবে।
অগ্নিমিত্রা অবশ্য মঙ্গলবার অনেকটা সুর নরম করেছেন। এদিন তিনি দুর্গাপুরে এসে বলেন, ডিম ছোড়া মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মন্ত্রী হিসাবে আমি বলব, আইন হাতে তুলে নেবেন না।