নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আমিষ নয়। বরং স্কুল পড়ুয়াদের পরোক্ষে জোর দিতে বলা হচ্ছে নিরামিষ খাবার গ্রহণের উপরই। অর্থাৎ, ঘুরিয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার ব্যাপারে। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগে বর্তমানে সরগরম কর্ণাটক। পাঠ্যবই সংক্রান্ত এহেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও উঠে এসেছে এনসিইআরটি।
অভিযোগ, ক্লাস সিক্সের পাঠ্যবইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হল ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ (হেলথ ইজ ওয়েলথ)। সেই ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ বিভাগে পরোক্ষে জোর দেওয়া হচ্ছে নিরামিষ খাবারের উপর। সুষম আহারের তালিকাতে রাখাই হয়নি মাছ, মাংস কিংবা ডিম। একটি সংগঠনের অভিযোগ, ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ অধ্যায়ে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ কিছু খাবারের ছবি দেওয়া হয়েছে। সেইসব খাবারের তালিকায় আমিষের নামগন্ধও নেই। পরিবর্তে রয়েছে রুটি, সবজি, দুধ এবং নানারকম ফল। এর ফলে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আবারও শিক্ষায় গেরুয়াকরণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, আমিষের পরিবর্তে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারের উপর জোর দেওয়াই নয়। কন্নড় ভাষার নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকেও ছোটো করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ে। কোনো কারণ ছাড়াই পাঠ্যবইয়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কৃষ্ণা’। কর্ণাটকের বিভিন্ন উপকথা, সাহিত্য, রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলের জীবনযাত্রা, পুরনো মাইসুরু এলাকার পরিচয়ের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেওয়াই হয়নি। ক্লাস সিক্সের যে পাঠ্যবই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে কন্নড় ভাষার গুরুত্বকে অনেকটাই খাটো করা হয়েছে।
সার্বিকভাবেই এমন গুরুতর অভিযোগে শোরগোল পড়েছে কর্ণাটকে। তা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে মোদি সরকারকে। সরকারি সূত্রের খবর, বিষয়ের গুরুত্ব খতিয়ে দেখে এব্যাপারে এনসিইআরটির কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাতে পারে শিক্ষামন্ত্রক। সেক্ষেত্রে ওই পাঠ্যবইয়ের যে অধ্যায় নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা পরিবর্তন করে দেওয়া হতে পারে। যদিও এব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।