Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঠিকাদারদের বকেয়া ১১০০ কোটি, থমকে উন্নয়ন থেকে রক্ষণাবেক্ষণ

ঠিকাদারদের কাছে কলকাতা পুরসভার বকেয়া প্রায় ১১০০ কোটি টাকা!

ঠিকাদারদের বকেয়া ১১০০ কোটি, থমকে উন্নয়ন থেকে রক্ষণাবেক্ষণ
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঠিকাদারদের কাছে কলকাতা পুরসভার বকেয়া প্রায় ১১০০ কোটি টাকা! এদিকে সরকারি সিদ্ধান্তে ঠিকাদারদের সমস্ত ধরনের পেমেন্ট বন্ধ! ফলে কার্যত ‘স্তব্ধ’ হয়ে গিয়েছে কলকাতা পুর এলাকায় যাবতীয় উন্নয়নের কাজ। পরিকল্পনা ছিল, চলতি বছর জুলাইতেই চালু করে দেওয়া হবে গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের নতুন জলপ্রকল্প। ধাপায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের সম্প্রসারণের কাজও চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। হৃষীকেশ পার্ক, গার্ডেনরিচে ময়লার ডিপো কিংবা ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্কে নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের কাজও শেষ হওয়ার কথা ছিল দ্রুত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর যাবতীয় কাজ গতি হারিয়েছে। সেই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের কাজও সঠিকভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ। 

Advertisement

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, পুরসভার ঘাড়ে বর্তমানে বিপুল আর্থিক বোঝা চেপে রয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ঠিকাদারদের দেওয়ার মতো টাকা নেই, এমনটা নয়। কিন্তু সরকারের ছাড়পত্র নেই। তাই ঠিকাদারদের কোনো পেমেন্ট দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ঠিকাদাররাও কাজ করতে গড়মিসি করছেন। উদাহরণ দিয়ে পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, গত সরকারের আমলে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার কাজ হাতে নিয়েছিল পুরসভা। পাড়ায় পাড়ায় ছোটো ছোটো কাজ হচ্ছিল। বর্তমানে সেই কাজও পুরোপুরি বন্ধ। ওই কাজের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এখনও বাকি বলে খবর। আধিকারিকদের একাংশের মতে, নয়া সরকার মনে করছে, তৃণমূল আমলে সব কাজেই বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। তাই নবান্নের নির্দেশ, প্রতিটি কাজের ফাইল খতিয়ে না দেখে ঠিকাদারদের পাওনা মেটানো যাবে না। এই অবস্থায় ঠিকাদারও তাই আর কাজে হাত দিচ্ছেন না। 
এক আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে শুধু আলোক বিভাগেরই ১১০ কোটি টাকা বাকি রয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে বিপুল আর্থিক দায় নিয়ে নিয়ে চলতে হচ্ছে। ২০২১ সালে সেই টাকার অঙ্ক ছিল প্রায় ৭০০ কোটি। সেই ‘দায়’ কমিয়ে ৪০০ কোটি টাকায় নামানো হয়েছিল। পরে আবার তা বেড়ে যায়। যখন যেমন হাতে টাকা আসছিল, সেই মতো ঠিকাদারদের পাওনা মেটানো হচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে প্রথমে নির্বাচনি বিধি ও পরে সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে বড়ো ধরনের পেমেন্ট করা যায়নি। ফলে বেড়েছে আর্থিক দায়ভার। 
টানা কাজ থমকে থাকায় পুর-আধিকারিকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, কোনো কাজ হচ্ছে না। ঠিকাদারদের অভিযোগ, বহু ছোটোখাটো ঠিকাদার রয়েছেন, যাঁরা ৫-১০ লক্ষ টাকার কাজ করেছেন। তাঁরা পাওনা টাকা না পেয়ে বিপদে পড়েছেন। কোথাও কোনো পথবাতি লাইট খারাপ হলে সেটা বদলাতেও অনেক সময় লাগছে। বরো ইঞ্জিনিয়ারিং ছোটখাটো পাইপ পাতার কাজ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। টেন্ডার হচ্ছে না। হলেও মিলছে না ঠিকাদার। তাই অভিযোগ উঠছে, পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ‘স্তব্ধ’ রয়েছে কাজকর্ম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ