


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে আটকে পড়েছেন নদীয়ার এক যুবক। প্রায় ১০ দিন ধরে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। ছেলের নিরাপদে দেশে ফিরে আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা-মা।
নদীয়া জেলার পলাশী এলাকার মতুয়াপাড়ার বাসিন্দা সৌমেন বৈদ্য। প্রায় চার মাস আগে মার্চেন্ট নেভিতে কাজে যোগ দেন। এরপর কাজের সূত্রে তৈলবাহী জাহাজে তিনি ইরানে যান। ওই জাহাজের ইঞ্জিন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে রয়েছেন। জাহাজ বিদেশে গেলে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত ফোন করে খোঁজখবর নেন। দূর দেশে থাকলেও ছেলের কণ্ঠস্বর শুনে কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতেন ওই যুবকের বাবা-মা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই জাহাজে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সেই কারণে ওখানকার বন্দরেই নোঙর করে জাহাজের মেরামতের কাজ শুরু হয়। পরিকল্পনা ছিল, জাহাজ মেরামতির পর তেল বোঝাই করে আবার গন্তব্যে রওনা দেবে। কিন্তু, যুদ্ধ শুরু হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরানের চারদিকে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জাহাজে থাকা সৌমেনবাবু ও অন্য কর্মীরা কার্যত আটকে রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩ মার্চ শেষবার সৌমেনবাবুর সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। সেদিন ফোনে ওই যুবক জানান, তাঁদের জাহাজের কাছাকাছি এলাকায় একাধিক মিসাইল আছড়ে পড়েছে। চারদিকে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির ছবি মোবাইলবন্দি করতেই সেনাবাহিনী তাঁর ফোন কেড়ে নেয় বলেও পরিবারকে জানান সৌমেনবাবু। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের লোকজন।
এই অবস্থায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রত্যেক মুহূর্ত তাঁরা আতঙ্কে কাটাচ্ছেন। আদৌ তাঁদের ছেলে নিরাপদে আছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁদের মনে। পরিবারের দাবি, দ্রুত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে সৌমেনবাবুকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। সৌমেনবাবুর মা দীপ্তি বৈদ্য বলেন, আমার ছেলে ইরানে তেলের জাহাজে আটকে রয়েছে। ওখানে যুদ্ধ চলাকালীন ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। কিন্তু, তারপর আর কথা হয়নি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আমাদের ছেলের সঙ্গে অন্তত যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হোক।