


সংবাদদাতা, তেহট্ট: ২০ বছর পর তেহট্ট, পলাশীপাড়া বিধানসভায় জাতীয় কংগ্রেস একা প্রার্থী দিল বিধানসভা নির্বাচনে। দুই জায়গার দুই প্রার্থীকে জেতাতে উৎসাহ নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। সারা দিন ধরে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে তাঁরা প্রচার করছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি মানুষের কাছে তাঁরা ভালো সাড়া পাচ্ছেন।
২০০৬ সালে প্রার্থীর পর এবার তাঁরা কংগ্রেসের প্রার্থী পেয়েছেন। তাই তাঁকে জেতাতে তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তেহট্ট বিধানসভা ছিল। সেই সময় ১৯৭১ সালের নির্বাচন ছাড়া এখানে বরাবর কংগ্রেস প্রার্থী জিতে এসেছিল। ১৯৭২ সালে এই বিধানসভা ভেঙে পলাশীপাড়া ও চাপড়া বিধানসভার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে তেহট্ট বিধানভাকে বিলোপ করা হয়। সেই সময় থেকে চাপড়া ও পলাশীপাড়া কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী দিত। পরে ২০১১ সালে আবার বিধানসভার পুনবিন্যাস হওয়ার পর তেহট্ট আবার বিধানসভার তকমা ফিরে পায়। ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হয়েছিল। তখন এই দুই বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল। তারপর কংগ্রেস-সিপিএম জোট হলে এই দুই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী দেয়। ফলে ব্যালটে হাত চিহ্ন দেখা যেত না।
কিন্তু, এবার কংগ্রেস একাই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দুই বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁরা প্রার্থী দিয়েছে। এবার এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা হাত চিহ্নেই ভোট দিতে পারবেন। এবার তেহট্ট বিধানসভা ও পলাশীপাড়া কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন জ্যোতির্ময় সরকার ও হামিদুল হক। প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই কর্মী-সমর্থকরা প্রচারে পড়েন। তেহট্ট-১ ব্লক কংগ্রেস সভানেত্রী চায়না মণ্ডল খান বলেন, অনেক দিন পর আমরা আমাদের দলের প্রার্থী পেয়েছি। তাই আমরা খুব খুশি। আমরা যেখানেই প্রচারে যাচ্ছি মানুষের সাড়া ভালো পাচ্ছি। বিশেষ করে এলাকার বয়স্ক মানুষ, যুবক ও মহিলাদের মধ্যে। অনেকেই বলেছেন কংগ্রেস প্রার্থী না থাকায় আমরা অন্য দলকে ভোট দিতাম। তাই এবার অন্য কোথাও নয়, নিজেদের দলের প্রার্থীকেই ভোট দেব।
পলাশীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী হামিদুল হক বলেন, অনেকদিন পর মানুষ ইভিএমে হাতচিহ্ন দেখতে পাবেন। তাতে আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ দেখে ভালোই লাগছে। আমরা এবার নির্বাচনে ভাল ফল করব।