


সৌম্য দে সরকার, মালদহ: এক সময় মালদহের জেলা সদর ইংলিশবাজার ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। বিভিন্ন সময়ে মালদহের এই ‘প্রিমিয়াম’ কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শান্তিগোপাল সেন, গৌতম চক্রবর্তী, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর মতো কংগ্রেস নেতারা। কিন্তু এই ইংলিশবাজারেই এখন নেতা থেকে কর্মীর চরম খরা কংগ্রেসের। সব দেখেশুনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির কটাক্ষ-ইংলিশবাজারে কংগ্রেস এখন কার্যত সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। বিধানসভা ভোটের ফলে তা ফের প্রমাণ হবে। কিন্তু কংগ্রেসের দাবি, আজও ইংলিশবাজারের মানুষের মনে ভালোবাসা রয়েছে এই শতাব্দী প্রাচীন দলের প্রতি। ভোটে তাই কংগ্রেসকে অগ্রাহ্য করা চরম বোকামি হবে।
ইংলিশবাজারে কংগ্রেস শেষবার জিতেছিল ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধে। কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী ছিলেন ইংলিশবাজারের শেষ কংগ্রেস বিধায়ক। তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে ইংলিশবাজারে কার্যত ধস নামে কংগ্রেসে। একের পর এক নেতানেত্রী যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। ফলে জেলা সদর ইংলিশবাজারে হাত শিবিরের কার্যত ছন্নছাড়া দশা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ছাত্র রাজনীতি থেকে উত্থান হওয়া ইংলিশবাজারের তৃণমূল প্রার্থী আশিস কুণ্ডুও এক সময় কংগ্রেসের দাপুটে নেতা ছিলেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস যেদিন থেকে সাঁইবাড়ি কাণ্ডের ভিলেন সিপিএমের হাত ধরেছে, তখন থেকে সারা রাজ্যের সঙ্গে ইংলিশবাজারও কংগ্রেসকে ত্যাগ করেছে। আজ ইংলিশবাজারে কংগ্রেস আদৌ রয়েছে কিনা, তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হবে।
বিজেপির মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাসের দাবি, কংগ্রেস দেশের আমজনতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কুত্সা করাই তাদের একমাত্র কাজ। ইংলিশবাজারের মানুষ কংগ্রেসের এই নীতিতে বীতশ্রদ্ধ। তাই এ. কেন্দ্রে কংগ্রেস এখন সাইনবোর্ড।
অন্যদিকে, এই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী অম্বর মিত্র বলেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে আমরা আত্মত্যাগ করে কংগ্রেসকে জেলায় অক্সিজেন জুগিয়েছিলাম। হঠাত্ কংগ্রেস আমাদের সঙ্গ ত্যাগ করেছে। তাই আমরা কংগ্রেস কর্মীদের বলছি, আপনারা যদি নিজেদের দলের অস্তিত্ব রক্ষা করতে চান, বামফ্রন্টকে ভোট দিন।
বিরোধীদের এই দাবি মানছে না কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব। দলের জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মান্তু ঘোষ বলেন, সরকারি ক্ষমতা এবং পুলিশকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে কংগ্রেসকে ভাঙা হয়েছে। মালদহ কিংবা ইংলিশবাজারও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আজও ইংলিশবাজারের মানুষের কংগ্রেসের প্রতি এক গভীর ও স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা রয়েছে। হয়তো আমাদের প্রচুর নেতানেত্রী, কর্মী বা বিরাট দলীয় কার্যালয় ইংলিশবাজারে নেই। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে রয়েছি। সাইনবোর্ড হয়ে যাইনি।