উজির আলি, চাঁচল: মালদহের চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন চাঁচল ১ ব্লক সভাপতি তথা বহিষ্কৃত নেতা আঞ্জারুল হক।
উজির আলি, চাঁচল: মালদহের চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন চাঁচল ১ ব্লক সভাপতি তথা বহিষ্কৃত নেতা আঞ্জারুল হক।
সোমবার মনোনয়নের শেষদিনে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে কিছুদিন ধরেই কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। দলের একাংশ কর্মী,সমর্থক বারবার আঞ্জারুলকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহেবুবের নাম ঘোষণা করে। এরপর ক্ষোভ তীব্র আকার নেয়। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে লাগাতার ধর্না ও আন্দোলনে শামিল হন। তবে, নেতৃত্ব সেসবকে গুরুত্ব দেয়নি বলেই অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে মনোনয়নের শেষ দিনে নাটকীয় মোড় নিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে সামনে আসেন আঞ্জারুল।
এদিন সকাল থেকেই তাঁর সমর্থনে চাঁচল শহরে দেখা যায় বিশাল মিছিল। কংগ্রেসের একাংশের কর্মী-সমর্থক ঢাকঢোল বাজিয়ে, প্রার্থীর ছবি হাতে তাঁকে নিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছন। মিছিল ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ চোখে পড়ে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আঞ্জারুলের অভিযোগ, বুথস্তরের কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করেছে দল। আন্দোলন ও ধর্না সত্ত্বেও নেতৃত্ব আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। বাধ্য হয়ে কর্মীদের দাবিকে মর্যাদা দিতে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমার প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য তৃণমূলকে হারানো ও কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা। গনি সাহেবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মনোনয়ন জমা করেছি।
অন্যদিকে, একই দিনে কংগ্রেসের ঘোষিত প্রার্থী আসিফ মেহেবুবও মনোনয়ন জমা দেন। এদিন তিনি স্ত্রী এবং কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছন। আসিফের অভিযোগ, প্রার্থী না হওয়ার জন্য আঞ্জারুলের অনুগামীরা দীর্ঘদিন ধরে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এমনকি রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে, যাতে নাম প্রত্যাহার করে নিই। তবে, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনেই ভোটের লড়াইয়ে থাকছি। আমার বিরুদ্ধে কেউ নির্দল প্রার্থী হলে লড়াই জোরদার হবে।
যদিও আসিফকে মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগ মানতে চাননি আঞ্জারুল। তাঁর দাবি, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর আসিফের দর্শন পাওয়া যায়নি। সব অভিযোগ মিথ্যা।
কংগ্রেসের অন্দরে কোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করেছে শাসকদল তৃণমূল। চাঁচল ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ আফসার আলি বলেন, গতবার কংগ্রেস সক্রিয় থাকার পরেও ৬৭ হাজার ভোট লিড নিয়ে আমাদের প্রার্থীর জয় হয়েছিল। এবারও চাঁচল বিধানসভায় ফের ঘাসফুল ফুটবে।