Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের সাংগঠনিক শিথিলতার সুযোগে জমি পুনরুদ্ধারে তৎপরতা হাত শিবিরের

বসিরহাটে তৃণমূলের সাংগঠনিক শিথিলতার সুযোগে জমি পুনরুদ্ধারে তৎপর কংগ্রেস। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

তৃণমূলের সাংগঠনিক শিথিলতার সুযোগে  জমি পুনরুদ্ধারে তৎপরতা হাত শিবিরের
  • ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূলের সাংগঠনিক শিথিলতার সুযোগে বসিরহাট মহকুমায় নতুন করে জমি শক্ত করার চেষ্টা শুরু করেছে কংগ্রেস। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে থাকা সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবার জনসংযোগে জোর দিয়েছে হাত শিবির। বিশেষ করে বাদুড়িয়া, বসিরহাট দক্ষিণ, হাড়োয়াসহ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেমেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মাঠে-ময়দানে তৃণমূলকে আর সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। ফলে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকেই এখন বড়ো সুযোগ হিসাবে দেখছে কংগ্রেস। এক সময় বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূল কার্যত আবর্তিত হত বুরহানুল মুকাদ্দিম ওরফে লিটনকে ঘিরে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। দলীয় অন্দরে এমনও চর্চা ছিল, জেলার সাংগঠনিক থেকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সিদ্ধান্তেই শেষ কথা বলতেন লিটন। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই ছবিটা আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে এলাকায় সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর প্রভাবও অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অভিষেকের হাত ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরে। তারপর ঋত-তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বও পেয়েছেন লিটন। কিন্তু আগের সেই দাপট ফিরবে বলে মনে করছেন না কেউ! এই আবহেই বহুদিন পর সংগঠনকে নতুন করে অক্সিজেন জোগানোর সুযোগ দেখছে কংগ্রেস। সম্প্রতি বাদুড়িয়ায় কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম ওরফে দিলুর উপস্থিতিতে জনসংযোগ কর্মসূচি কার্যত সেই রাজনৈতিক বার্তাই দিল। কংগ্রেসের দাবি, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষকে সামনে রেখেই তারা সাংগঠনিক বিস্তারে জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পুরানো কর্মীরা ফের সক্রিয় হচ্ছেন। পাশাপাশি বর্তমান শাসক দলের অসন্তুষ্ট কর্মী-সমর্থকদের একাংশও কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। 

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, বসিরহাটে কংগ্রেসের লড়াই এখন আর শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, তৃণমূলের দুর্বল হয়ে পড়া সাংগঠনিক জমিতে নিজেদের জায়গা তৈরি করাও তাদের লক্ষ্য। এক সময় যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক পুরোটাই কার্যত তৃণমূলের দখলে চলে গিয়েছিল, সেই জমিতেই ধীরে ধীরে ফের পা রাখার চেষ্টা করেছে হাত শিবির। সেই লক্ষ্যেই জনসংযোগ, ছোটো ছোটো কর্মিসভা এবং বুথস্তরে সংগঠন গড়ার কাজে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন কংগ্রেস নেতারা। দিলুর কথায়, ‘সেই স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই করে চলেছে কংগ্রেস। বাংলায় যে পরিস্থিতি, তার মোকাবিলাও করতে পারবে কংগ্রেস। আগামীতে মানুষ কংগ্রেসের 
পক্ষেই থাকবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ