গুয়াদালাজারা: হলুদ জামার উপরে উজ্জ্বল লাল রংয়ের কোট ও টাই। নীল প্যান্ট। চোখে চশমা। ডান হাতটা সামনে উপরদিকে অভিবাদনের ভঙ্গিতে তোলা। নড়ছেন না একেবারেই। ঠিক যেন জীবন্ত স্ট্যাচু। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে হাজির কঙ্গোর এই সুপারফ্যানই কেড়ে নিলেন নজর। একটা বেদির উপর সারাক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে কঙ্গোকে সমর্থন জানালেন তিনি। কৃষ্ণাঙ্গ এই সমর্থকের নাম মিকেল এনকুকা এমবোলাডিঙ্গা। তবে লুমুম্বা ভিয়া নামেই বেশি পরিচিত। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার মতোই হাতটা অভিবাদনের ভঙ্গিতে বাড়িয়ে রাখেন বলেই এহেন নামকরণ।
কঙ্গো ছিল বেলজিয়ামের শাসনাধীন। ১৯৬০ সালে তা ঘুচিয়ে স্বাধীনতা অর্জনে বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন লুমুম্বা। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীও তিনি। দায়িত্ব নিয়েই সংস্কারের পথে হাঁটেন লুমুম্বা। কিন্তু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে একবছরের মধ্যে নিহত হন তিনি। নির্মমভাবে খুন করা হয় তাঁকে। তবে মৃত্যুর পরেও লুমুম্বা রয়ে গিয়েছেন কঙ্গোবাসীদের হৃদয়ে। বিশ্বকাপের গ্যালারিতে জীবন্ত স্ট্যাচুই তার নিদর্শন। মিকেল অবশ্য পর্তুগালের বিরুদ্ধে কঙ্গোর প্রথম ম্যাচে এভাবে দলকে সমর্থন জানাতে পারেননি। বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইবোলা কোয়ারেন্টাইন। কলম্বিয়া ম্যাচে তাই বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটল সুপারফ্যানের। যদিও দিনটা সুখের হল না। দারুণ লড়েও ০-১ ব্যধানে হার মানল কঙ্গো।
ম্যাচ শুরুর অন্তত ঘণ্টাখানেক আগে গ্যালারিতে হাজির হওয়াই অভ্যাস মিকেলের। পুরো ৯০ মিনিট ডানহাত তুলে না নড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় না? জানা গিয়েছে, এরজন্য প্রতিদিন প্রায় ঘণ্টাখানেক প্র্যাকটিস করেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে মাঠে আসছেন। তবে গত বছর আফ্রিকা কাপে লুমুম্বার মতো স্ট্যাচু হয়েই নেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দেন। নিহত দেশনায়ক যে ছিলেন মুক্তির দূত!