Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬

‘বন্দেমাতরম’ বিতর্কে সংঘাত তুঙ্গে, কংগ্রেসকে চড়া সুরে নিশানা বিজেপির

‘বন্দেমাতরম’ ইস্যুতে শুরু বাক্‌যুদ্ধ। বিজেপি বনাম বিরোধী তথা কংগ্রেস। বিজেপির মরিয়া চেষ্টা নিজেদের দেশপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরে কংগ্রেসকে তুলোধনা করা।

‘বন্দেমাতরম’ বিতর্কে সংঘাত তুঙ্গে, কংগ্রেসকে চড়া সুরে নিশানা বিজেপির
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘বন্দেমাতরম’ ইস্যুতে শুরু বাক্‌যুদ্ধ। বিজেপি বনাম বিরোধী তথা কংগ্রেস। বিজেপির মরিয়া চেষ্টা নিজেদের দেশপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরে কংগ্রেসকে তুলোধনা করা। অন্যদিকে কংগ্রেসের তোপ, মোদি-শাহরা ভুয়ো দেশপ্রেমী। ১৯৩৭ সালে কলকাতা কংগ্রেসের অধিবেশনে গান্ধীজি, নেতাজি, নেহরু, সর্দার প্যাটেল, রাজেন্দ্রপ্রসাদ, রবীন্দ্রনাথ, মৌলানা আজাদরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার চেয়েও কি বিজেপি বড় দেশপ্রেমী? বৃহস্পতিবার তোপ দেগেছেন কংগ্রেসের প্রচার বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশ। যদিও আক্রমণে শান দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুর চড়িয়েছেন নীতিন নবীন, জেপি নাড্ডা সহ বিজেপির ছোট বড় মাঝারি নেতানেত্রীরা। 

Advertisement

ফলে ‘বন্দেমাতরম’ ফের রাজনীতির ভরকেন্দ্র। রামমন্দির থেকে নিট তথা জেন জি আন্দোলনে লাগাতার কোণঠাসা বিজেপি এবং সরকারপক্ষ আবার বন্দেমাতরমকেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র করেছে। বন্দেমাতরমের পূর্ণাঙ্গ রূপ গাইতে হবে জাতীয় গান হিসেবে, এই মর্মে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পাশাপাশি সংসদের বাদল অধিবেশনে গত ৩০ জুলাই পাশ হয়েছে নতুন বিল— জাতীয় গান বন্দেমাতরম’কে অসম্মান করলে ভুগতে হতে পারে তিন বছর জেলের সাজা। 
এমত আবহে স্বাধীনতা দিবসে দলীয় কার্যালয় ইন্দিরা ভবনের অনুষ্ঠানে পুরো বন্দেমাতরম গান গাওয়ার সময় অস্থির হতে দেখা গিয়েছে সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং রাহুলকে। কেন কংগ্রেস বন্দেমাতরমের প্রথম দুই স্তবক ছাড়া গাইতে রাজি নয়? প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসকে দেশদ্রোহী আখ্যা ঩দিয়েছে বিজেপি। অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বলেছেন, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস মুসলিম লিগের দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রস্তাব পাশ করিয়েছিল যে, বন্দেমাতরমের প্রথম দু‌ই স্তবকই গাওয়া হবে। সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি থেকে কংগ্রেস সরবে না। এখনো কংগ্রেস দেশে বিভাজন চালু রাখতে সচেষ্ট। অমিত শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে যে ভুল হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদি সরকার সেটি সংশোধন করেছে। 
পালটা শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ নিজেদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের থেকেও বড় ভাবছেন। সেটা না হলে এরকম উদ্ধত বক্তব্য কেউ রাখতে পারে না। চ্যালেঞ্জ করছি, টেলিপ্রম্পটার ছাড়া এবং কাগজ না দেখে মোদি-শাহ বন্দেমাতরমের পূর্ণাঙ্গ রূপ একবার গেয়ে দেখান। একইভাবে রমেশের মন্তব্য, আমরা ১৯৩৭ সালে ২৮ অক্টোবর কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে পাশ হওয়া ‘প্রস্তাব’ মেনে প্রথম দু’ স্তবকই গাইব। দলীয় অনুষ্ঠানে বন্দেমাতরমকে অসম্মান করা হয়নি। কেউ কি গান গাওয়ার সময় স্লোগান দিয়েছেন? সোনিয়াজি কি স্থান ছেড়ে চলে গিয়েছেন? রমেশের মন্তব্য, নতুন আইনে অসম্মানের কথা আছে। পুরো গান গাইতে হবে, এমনটা কিন্তু কোথাও নেই। যদিও সেদিন এআইসিসির অনুষ্ঠানে পুরো গান গাওয়ার বিষয়টি দলে সমন্বয়ের অভাবই কারণ বলে স্বীকার করছে কংগ্রেস। তবে কি কেরল, কর্ণাটক, হিমাচল প্রদেশ, তেলেঙ্গানার মতো কংগ্রেস শাসিত চার রাজ্যের সরকারি অনুষ্ঠানেও দুই স্তবকই গাওয়া হবে? রমেশের জবাব, আগামী ২৬ জানুয়ারি তার উত্তর মিলবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ