


নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্বস্থলী: শীত শেষ হয়ে গিয়েছে। তবুও পূর্বস্থলীর নার্সারিতে তুমুল ব্যস্ততা। এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এখন বিভিন্ন ধরনের চারাগাছ সারা রাজ্যে সরবরাহ হয়। এলাকার অর্থনীতির ভোল বদল করেছে এই ব্যবসা। চারদিকে আমগাছ। শান্ত পরিবেশ। এখানে এসে কারও মনেই হবে না রাজনীতিতে উথাল পাথাল হাওয়া বইছে বলে। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে দল এবার টিকিট দেয়নি। তিনি কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাতে দলের অস্বস্তি বেড়েছে। এবার নতুন মুখ বসুন্ধরা গোস্বামীকে নিয়ে কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট প্রত্যাশা রয়েছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা করবেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে তাঁর কর্মসূচি হচ্ছে বলে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন।
আমবাগানে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল এলাকার বাসিন্দা সুমন্ত বৈরাগ্যর সঙ্গে। সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা হাতে নেন না। তবে তৃণমূল সমর্থক। তিনি ব্যাখা করেই বলেন, ক’জন প্রার্থীকে দেখে তৃণমূলকে ভোট দেয় বলুন তো। সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেনেন। তিনি এখানে এসে সভা করলে দেখবেন সবার মান, অভিমান গলে জল হয়ে গিয়েছে। এই জমানায় অনেক কাজ হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে ঢালাই রাস্তা হয়েছে। পথবাতি বসছে। আর কী চাই বলুন তো? এখানকার বহু বাসিন্দা ওপার বাংলা থেকে এসেছেন। তাঁরাও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। কেউ বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন আবার কেউ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বিনামূল্যে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এই দলে কেউ বিদ্রোহ করলে তিনি নিজেই ভুল করবেন। পূর্বস্থলী বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালের নির্বাচনেও বিজেপি ভাল ভোট পেয়েছিল। কিন্তু জয়ী হয় তৃণমল। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তপন চট্টোপাধ্যায় সেবারের নির্বাচনে ৯২ হাজার ৪২১টি অর্থাৎ ৪৩.৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী গোবর্ধন দাস ৮৫ হাজার ৭১৫ অর্থাৎ ৪০.৩৭ শতাংশ ভোট পান। বামেরা পেয়েছিল ১৩.২৫ শতাংশ ভোট। তৃণমূল সব অঙ্ক কষেই ময়দানে নেমেছে। জোড়া ফুলের প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী বলেন, মানুষের যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। আপাতত সবার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। সবাই সহযোগিতা করছেন। প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গেও কথা বলব।
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তপনবাবু বলেন, আর রাজনীতি করব না। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব।
বিজেপি প্রার্থী গোপাল চট্টোপাধ্যায়ও জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, মানুষ আর তৃণমূলকে ভোট দেবেন না। তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, এই বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বড় ফ্যাক্টর। এসআইআরে তাঁদের অনেকের নাম বাদ চলে গিয়েছে। বাকি যাঁরা রয়েছেন তাঁরা বিজেপি’র বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে। তাই এবারের ভোট অন্য রকম হবে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, তপনবাবু বহু পুরানো কর্মী। তিনি প্রথম দিন থেকে দলে রয়েছেন। এবারও তিনি নিশ্চয় সহযোগিতা করবেন। প্রচারে বসুন্ধরা গোস্বামী।-নিজস্ব চিত্র