নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের পুরনো বিরাজমোহিনী মাতৃসদন হাসপাতালে এক সময়ে বহু বাসিন্দা চিকিৎসা করাতে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই হাসপাতালের করুণ অবস্থা। এক্সরে মেশিন বন্ধ। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন আছে, কিন্তু তার কোনো লাইসেন্স নেই। ফ্রিজে থাকা স্যালাইনের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু ওষুধেরও। কিন্তু সেগুলিই রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার লাইসেন্স নেই। ফায়ার এক্সটিংগুইশারের মেয়াদও শেষ। তবে এই হাসপাতালে এখনও প্রসূতিরা নিয়মিত চিকিৎসা করাতে আসেন। তাই সেখানকার দুরবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
১৯৯৯ সাল থেকে এই হাসপাতালের দায়িত্ব নেয় বারাকপুর পুরসভা। প্রথম দিকে ছিল ডায়ালিসিস ইউনিট। অনেক রোগেরই চিকিৎসা হতো এখানে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিকাঠামো থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংকুচিত হতে থাকে। এখন ধুকছে বিরাজমোহিনী মাতৃসদন হাসপাতাল।
হাসপাতালের বাস্তব অবস্থা খতিয়ে দেখতে বিজেপি নেতৃত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ওই হাসপাতালে হাজির হন। তারা প্রত্যেক বিভাগ ঘুরে দেখেন। হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন। প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা বর্তমান বিজেপি নেতা প্রদীপ ঘোষ বলেন, আমি ২০১২ সালে এই হাসপাতালের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। পরিকাঠামো উন্নয়নে অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু এখন কেউ দেখার নেই। এক্স-রে মেশিন চালানোর জন্য অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেশন বোর্ড (এইআরবি)-এর লাইসেন্স লাগে। সেই লাইসেন্স নেই। এমনকী প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনেরও। অথচ সেই মেশিন দিয়েই প্রসূতিদের পরীক্ষা চলছে। স্যালাইনের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, সেটা ব্যবহার করলে রোগীদের বিপদ হতে পারে। তবুও তেমন স্যালাইনই দেওয়া হচ্ছে রোগীদের।
বিজেপি নেতাদের আরও অভিযোগ, কোন রোগীর বিল যদি আট হাজার টাকা হয়, তাহলে হাসপাতালের খাতায় লেখা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা। এমন আর্থিক তছরুপের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সমস্ত অভিযোগ সম্বলিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিকর্তা তথা সিএমওএইচকে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।