


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার ৩৫টি অঞ্চলের পদ হারানো সভাপতিদের ফের সংগঠনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা হল। রাজ্যের নির্দেশে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব সাবেক অঞ্চল সভাপতিদের কনভেনর করে নতুন নির্বাচনি কমিটি গঠন করেছে। বর্তমান অঞ্চল সভাপতিদের ওই কমিটির কো-কনভেনর করা হয়েছে। এরফলে অঞ্চলস্তরে তৃণমূল নেতৃত্ব একজোট হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। নির্বাচনি কমিটি গঠন করে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব জঙ্গলমহলে ভোটের সুর বেঁধে দিল বলেও ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। এদিকে, নির্বাচনি কমিটি গঠনের ফলে নবনির্বাচিত অঞ্চল সভাপতিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় দলের তরফে রাশ টানা হল বলে শাসক দলের একাংশ মনে করছে।
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, এই কাজ জেলা নেতৃত্বের আগেই করা উচিত ছিল। দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরানোদের ফের দলের সংগঠনে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মান অভিমান ভুলে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, কয়েকমাস আগে শাসক দলের তরফে বাঁকুড়ার সাংগঠনিক জেলায় অঞ্চলস্তরে রদবদল করা হয়। প্রায় প্রতিটি ব্লক এলাকায় এক বা একাধিক পঞ্চায়েতে কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা অঞ্চল সভাপতিদের রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই জায়গায় নতুনদের আনা হয়েছিল। তা নিয়ে অঞ্চলে অঞ্চলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়। বেশিরভাগ জায়গায় নতুন অঞ্চল সভাপতিদের পুরানো নেতারা মেনে নিতে পারেননি। সাবেক সভাপতি ও কমিটির লোকজনদের নতুন অঞ্চল নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না বলেও অভিযোগ ওঠে। বেশিরভাগ অঞ্চলে উভয় শিবিরের নেতারা নিজ নিজ অনুগামীদের নিয়ে সমান্তরাল সংগঠন চালানোর চেষ্টা করছিলেন। তারফলে দল অস্বস্তিতে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে উভয় শিবিরই দলের উপরমহলে অভিযোগ জানিয়েছিল। এভাবে চললে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। সেই কারণে সবপক্ষকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হল। তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে ৩৫টি অঞ্চলে নির্বাচনি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে সকলে যাতে একসঙ্গে লড়াই করেন তারজন্যই দলের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া-২, খাতড়া, সারেঙ্গা ও রাইপুর ব্লকের প্রতিটিতে চারটি করে, মেজিয়া, শালতোড়া, ছাতনা, সিমলাপাল ও তালডাংরার তিনটি করে, গঙ্গাজলঘাটির দু’টি, বাঁকুড়া-১ ও ইন্দপুরের একটি করে অঞ্চলে ওই নির্বাচনি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক তৃণমূল নেতা বলেন, নির্বাচনি কমিটি গঠনের মাধ্যমে দল ভোটের দামামা বাজিয়ে দিল। কয়েকজন অঞ্চল সভাপতিকে অপসারণ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। তাঁরা পদ হারিয়ে মুষড়ে পড়েছিলেন। নির্বাচনি কমিটির কনভেনর পদ পেয়ে তাঁরা চাঙ্গা হয়েছেন।