নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাত্রশূন্য স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগের সরকারের পথেই হাঁটছে বর্তমান বিজেপি সরকার। স্কুলগুলির অবস্থা, জমি ও বিল্ডিংয়ের পরিমাণ, মালিকানা প্রভৃতির সমীক্ষা করে সেগুলিকে বিকল্প কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, যে স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব, সেগুলিকে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে, যেগুলির সেই সুযোগ নেই, সেগুলিকে কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র বা জনগণের কাজে লাগে এমন কোনো পরিষেবামূলক সরকারি কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে। তবে, আগের সরকারের মতো পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর কোনো ঘোষণা এখনও নেই।
স্কুল শিক্ষা কমিশনারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে। জেলা শিক্ষা আধিকারিক (ডিইও), জেলা বিদ্যালয় শিক্ষা পরিদর্শক (ডিআই) ছাড়াও অন্য একজন আধিকারিককে সদস্য হিসাবে রাখতে পারবে জেলাশাসক। ৩০ দিনের মধ্যে মূলত তিনটি বিষয়ে রিপোর্ট দেবে এই কমিটি। প্রথমত, স্কুলটিকে চালিয়ে যাওয়া বা পুনরুজ্জীবিত করা হবে কি না। তার সম্ভাবনা না থাকলে সেই স্কুলভবন এবং জমিকে অন্য কোন জনপরিষেবামূলক কাজে লাগানো যায়, তার ব্যাখ্যা। স্থানীয় এলাকার চাহিদা বুঝে ঠিক কোন পরিষেবা এখানে চালু করা উচিত, তা জানাবেন আধিকারিকরা। তবে, কোনো শিশুর স্কুলে যাওয়ার অধিকার খর্ব করে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে না।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যে কম বেশি ৪১০০টি স্কুল পড়ুয়া শূন্য। বেসরকারি স্কুল ধরলে সংখ্যাটি দ্বিগুণ হয়। তবে, সেক্ষেত্রে তথ্যগত ভ্রান্তি রয়েছে বলেই আধিকারিকদের দাবি। তাই সংখ্যাটি চার-পাঁচ হাজার ধরেই এগচ্ছে বিকাশ ভবন। তবে, এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হচ্ছে। ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র তরফে প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, আগের সরকার বন্ধ স্কুলগুলিকে পিপিপি মডেলে চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। এই সরকারও সেই পথে হাঁটছে। সরকারি স্কুল বেসরকারি হাতে দেওয়া যাবে না।