


নয়াদিল্লি: ‘মোদি সন্ত্রাসবাদী’ মন্তব্যের জেরে বিপাকে মল্লিকার্জুন খাড়্গে। এই ইস্যুতে বিজেপির নালিশের ভিত্তিতে বুধবার কংগ্রেস সভাপতিকে নোটিস পাঠাল নির্বাচন কমিশন। এদিন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাড়্গেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটে প্রচারের শেষদিনে মঙ্গলবার চেন্নাইয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন খাড়্গে। দক্ষিণের ওই রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে এআইএডিএমকের জোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে। যদিও পরে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ওই সাংবাদিক বৈঠকেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন তিনি। খাড়্গের দাবি ছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলেননি। বলতে চেয়েছেন, মোদি যেভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অপব্যবহার করছেন তাতে দেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলি ‘সন্ত্রস্ত’। কংগ্রেস সভাপতির এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও ভোটের বাজারে ইস্যুটি হাতছাড়া করতে চায়নি বিজেপি। গতকালই তারা নির্বাচন কমিশনে নালিশ ঠোকে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদী বলে কংগ্রেস সভাপতি শুধুমাত্র মোদিকে নয়, দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তারা দাবি তোলে, কংগ্রেস ও তাদের জোটসঙ্গী ডিএমকে-কে এজন্য ক্ষমা চাইতে হবে। লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পরদিন বুধবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও যায় বিজেপির প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কিরেন রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘওয়াল। প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগে কমিশনের কাছে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা। কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে রিজিজু বলেন, আর কোনো রাজনৈতিক দল এর আগে কোনোদিন কংগ্রেসের মতো এতটা নীচে নামেনি। প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এধরনের অপমানজনক মন্তব্য কেউ কোনোদিন করেনি। প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদী বলাটা অপরাধ। বিজেপি প্রতিনিধিদল ঘুরে যাওয়ার পরই খাড়্গের বিরুদ্ধে নোটিস ইস্যু করে কমিশন।