


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষকে বিমার আওতায় আনার কথা বলছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও এখনো দেশে বিমা কেনার হার যথেষ্ট কম। জীবন বিমার পাশাপাশি সাধারণ বিমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম আদায় বাড়াতে এখনো এজেন্টরাই বড়ো ভরসা। সেই এজেন্টরা এবার অভিযোগ তুললেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বিমা সংস্থার তরফে অনেকটা কমানো হয়েছে তাঁদের কমিশন। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বিমা সংস্থা ইতিমধ্যেই কমিশন অনেকটা ছাঁটাই করেছে। বাকিরাও সেই পথে হাঁটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পথে নামলেন সাধারণ বিমার এজেন্টরা। নিউটাউনে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বিমা সংস্থার মূল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, যে কমিশনের উপর ভরসা করে হাজার হাজার এজেন্টের সংসার চলে, তা কমানোয় মূল্যবৃদ্ধির বাজারে আর্থিক সংকট তীব্র হবে। এজেন্টদের একাংশের বক্তব্য, স্বাস্থ্যবিমা হোক বা অন্যকোনো সাধারণ বিমা—ক্লেম মেটানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির থেকে অনেক এগিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থাগুলি। তাঁদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার এজেন্ট কমিশন কমানোয় এজেন্টরা বেসরকারি সংস্থায় ঝুঁকলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির প্রিমিয়াম আদায় কমবে। তাতে সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থা খারাপ হবে। সরকার সেই পথই ধরতে চাইছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন তাঁরা। জেনারেল ইনশিয়োরেন্স এজেন্টস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সরকার বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ন্যাশনাল ইনশিয়োরেন্স ১৬,৬৬০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আদায় করেছিল। এর মধ্যে এজেন্টদের দেওয়া ব্যবসার অঙ্ক ছিল ৬,৩৯৭ কোটি টাকা। এর থেকেই স্পষ্ট, প্রিমিয়াম আদায়ে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। অথচ পলিসি অনুযায়ী কোথাও কমিশন এক চতুর্থাংশ করা হয়েছে, কোথাও আবার করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। অথচ, গ্রাহকরা যে তাতে আর্থিক সুরাহা পেয়েছেন, এমন নয়। তাঁদের প্রিমিয়াম খরচ কমেনি। কমিশনই আমাদের রুটিরুজি, তাই আমরা পথে নামতে বাধ্য হয়েছি। আশা করি, আমাদের দাবি মেনে কমিশনের হার আগের জায়গায় ফেরানো হবে।-নিজস্ব চিত্র