নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যের অফিসারদের বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কোন আধিকারিকদের বদলি করতে হবে এবং কাদের বদলি জরুরি নয়, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভোটমুখী রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব ও নির্বাচনি আধিকারিকদের (সিইও) চিঠি দিয়েছে কমিশন।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনো আধিকারিক যদি গত চারবছরের মধ্যে তিনবছর নিজের জেলায় কর্মরত থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে বদলি করতে হবে। যদি এইসময়ের মধ্যে তাঁদের পদন্নোতিও হয়ে থাকে, তবে সেটাও ধরা হবে সময়কালের হিসেবে। কমিশন আরো জানিয়েছে, ডিইও বা জেলাশাসক, আরও, এআরও, ইআরও, এইআরও, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, ডেপুটি বা যুগ্ম কালেক্টর এবং বিডিওদের বদলি করতে হবে। আর পুলিশের ক্ষেত্রে এডিজি, আইজি, ডিআইজি, এসএসপি, পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি করতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
নির্দেশিকায় আরো জানানো হয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচন বা উপনির্বাচনে জেলাশাসক, রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত আধিকারিকেরা যে জেলায় দায়িত্বে ছিলেন, এবার তাঁদের সেখানে বদলি করা যাবে না। এছাড়া সদর দপ্তরে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বদলির এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নবান্নে কর্মরত অফিসারদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। এছাড়া আগামী মে-জুন মাসের মধ্যে যাঁরা অবসর নেবেন তাঁদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচনের কোনো দায়িত্ব তাঁদের দেওয়া যাবে না।
কমিশন আরো জানিয়েছে, যেসব সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে আগে নির্বাচন কমিশন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল, কিংবা আগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, অথবা যাঁদের বিরুদ্ধে আগের কোনো নির্বাচন বা নির্বাচন-সংক্রান্ত কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের কাউকেই নির্বাচনের কোনো কাজে লাগানো যাবে না। ভোট ঘোষণার পর আধিকারিকদের একটি মুচলেকাও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাতে জানাতে হবে, তাঁদের কোনো নিকট আত্মীয় ভোটে প্রার্থী নন। এছাড়া সেই মুচলেকাতেই জানাতে হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব বদলি কার্যকর করতে হবে রাজ্য সরকারগুলিকে।