


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, ভোটদান-শেষের সময় থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে মদ বিক্রি, সরবরাহ বন্ধ। কেনাবেচা বন্ধ হোটেল, রেস্তরাঁতেও। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের যে ১৫২ কেন্দ্রে ভোট, সেখানে আজ ২১ তারিখ সন্ধে ছ’টা থেকে নিষিদ্ধ। ভোটদান শেষ হওয়ার স্বাভাবিক সময় সন্ধে ছ’টা। তার আগে থেকে ৪৮ ঘণ্টা। একইভাবে আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের বাকি ১৪২ টি কেন্দ্র সহ আশেপাশে এই নিয়ম কার্যকর হবে ২৭ এপ্রিল সন্ধে ছ’টা থেকে।
পশ্চিমবঙ্গে ২১-ঊর্ধ্ব নাগরিক ব্যক্তিগতভাবে ৭৫০ এমএলের ছ’টি পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মদের বোতল ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখতে পারে। সেটিও ভোটপর্বে কমানো হচ্ছে। কমিশনের এই নির্দেশ না মানলে আইন অনুযায়ী ছ’মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দু’ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা কিংবা উভয়ই হতে পারে। বাজেয়াপ্ত হবে পুরো দোকানের স্টক। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভারতের নির্বাচন কমিশন আরো জানিয়েছে, গণনার পুরো দিনও ‘ড্রাই ডে।’। অর্থাৎ ওইদিন গোটা রাজ্যে মদ কেনাবেচা নিষিদ্ধ।
প্রথম দফায় ভোট উত্তরবঙ্গে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে ভোটের ১০ দিন আগে সোমবার থেকেই সরকারি-বেসরকারি মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনার মতো জেলায় ভোট ২৯ এপ্রিল। ফলে সেখানে কমিশনের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার কথা ২৭ এপ্রিল থেকে। কিন্তু জেলায় জেলায় এখন থেকেই তা লাগু। কোথাও লিখিত, কোথাও জেলাশাসকদের মৌখিক নির্দেশে তা কার্যকর হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশে সন্ধে ছ’ টা পর্যন্ত। কিন্তু জেলা প্রশাসন পুরো দিনরাত বন্ধের পৃথক নির্দেশ জারি করেছে।
‘কমিশনেরই কর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত জেলাশাসকদের এভাবে ‘ধরে আনতে বললে বেঁধে আনা’র আচরণে উপার্জন কমছে ব্যবসায়ীদের। একইসঙ্গে আঘাত রাজ্যের রাজস্বেও। দেশি-বিদেশি মদ বিক্রি থেকে রাজস্ব বাবদ সরকার বছরে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা পায়। গত শনিবার রাজ্যের আবগারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কমিশনের এক কর্তা। সেখানে মদ বিক্রির হিসাব হাতে পেয়ে দেখেন, আচমকাই ৪০ শতাংশের বেশি বিক্রি বেড়ে গিয়েছে। তখনই তিনি জেলাশাসকদের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন, অবিলম্বে সব বন্ধ করুন। সবার আগে হাওড়ায় রাজ্য সরকারের মূল গোডাউন ওয়েবকো বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট পর্বে এখনো পর্যন্ত ৩১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৬২১ লিটার বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ৮১ কোটি টাকা।
১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩৫ (সি) ধারার বাইরে গিয়ে এখন থেকেই নিষেধাজ্ঞার জারির বিষয়ে কমিশনের ব্যাখ্যা, ৪৮ ঘণ্টার বিষয়টি ন্যূনতম। এর বাইরে রাজ্য তথা জেলা প্রশাসন তার নিজের মতো করে পরিস্থিতি বুঝে সময় বাড়াতেই পারে। কিন্তু কোনোভাবেই কম করতে পারবে না। জেলা প্রশাসনও নির্দেশিকায় জানিয়েছে, ১৯০৯ সালের বেঙ্গল এক্সাইজ আইনের ২৬ (১) ধারা প্রয়োগ করেই এটি করা হচ্ছে।