নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নির্বাচন কমিশন কি বিএলওদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করছে? এই প্রশ্ন উঠছে কারণ, ‘ভালো কাজ করা’ বুথ লেভেল অফিসারদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আজ, রবিবার ন্যাশনাল ভোটার্স ডে উপলক্ষ্যে রাজ্যের এরকম ৫৮৮ জন বিএলও-কে সম্মান জানাবে নির্বাচন কমিশন। এই প্রেক্ষিতে বিএলওদের একাংশ এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের কটাক্ষ, এ আসলে আঘাত করে ক্ষতে মলম দেওয়ার চেষ্টা! পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই কি কমিশন এমন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল?
সূত্রের খবর, এসআইআর পর্বে কারা ভালো কাজ করেছেন, প্রতি বিধানসভা থেকে সেরকম দু’জন করে বিএলওর নাম কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জেলাশাসকদের। সেক্ষেত্রে এক-একটি কেন্দ্র থেকে দু’য়ের বেশি দাবিদার উঠে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিটি জেলা ইআরও এবং এইআরওদের থেকে রিপোর্টের ভিত্তিতে দু’টি করে নাম স্থির করে। মূলত যাঁরা নিজের কাজের পাশাপাশি অন্য বিএলওদের সহায়তা করেছেন অথবা সময়ের মধ্যে নির্ভুল কাজ করে নজির সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একজন করে এইআরওর নাম মনোনীত করতে বলা হয়েছিল। সেইমতো ৫৮৮ জন বিএলও এবং ২৯৪ জন এইআরওর নাম চূড়ান্ত হয়েছে।
কমিশন ভোটার তালিকার যে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ চালাচ্ছে, সেক্ষেত্রে বিএলওরাই ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দেওয়া-নেওয়া, শুনানির নোটিস হস্তান্তর সহ সিংহভাগ কাজ করছেন। কিন্তু শুরু থেকেই একাধিক প্রশ্নে তাঁদের ক্ষোভবিক্ষোভ চরমে রয়েছে। অভিযোগ, কমিশনের সব নির্দেশ মেনে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের নাজেহাল অবস্থা। এখন চলছে শুনানির প্রক্রিয়া। একদিকে তাঁদের প্রতি পদক্ষেপে ভোটারকে সহায়তা করতে হচ্ছে, সেই সঙ্গে মানতে হচ্ছে কমিশনের যখন-তখন পাঠানো নানা নির্দেশ। এই অবস্থায় অত্যধিক কাজের চাপ নিতে না পেরে কয়েকজন আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এসআইআর পর্বে জেলায় জেলায় এমন ঘটনা সামনে এসেছে। তাই কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে বিএলওদের মধ্যে থেকে। কেউ বলছেন, যেভাবে অত্যধিক মানসিক চাপে কাজ করতে হয়েছে, তারপর এসব সংবর্ধনার কী অর্থ? আসলে ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করছে কমিশন। কারও আবার দাবি, হাড়ভাঙা খাটুনির দাম দিচ্ছে কমিশন। কমিশন ভালো কাজের স্বীকৃতি দিলে কারও সমস্যা থাকবে কেন?