নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কখনও ডিজিটাল অ্যারেস্ট, কখনও বিনিয়োগ প্রতারণা, কখনও আবার কেওয়াইসি আপডেটের নামে ফাঁকা হচ্ছে অ্যাকাউন্ট। গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। সেই টাকা রাখার জন্য প্রতারকরা এখন মিউল অ্যাকাউন্ট ভাড়ায় নিচ্ছে। কোনো গ্রাহক বেআইনিভাবে নিজের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিলে পাচ্ছে মোটা টাকা কমিশন। এই ধরনের একাধিক মিউল অ্যাকাউন্টের হদিশ পেল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। এমন ৬ জন অ্যাকাউন্ট গ্রাহককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা নিজেদের ইচ্ছায় সাইবার প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক মিউল অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে আগস্ট মাসে। যে অ্যাকাউন্টগুলি সবই বিধাননগর কমিশনারেটের অধীনে। সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা স্থানান্তর হয়েছে। সন্দেহভাজন ওই ধরনের অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের বিরুদ্ধে নজর রাখছিল পুলিশ। ডিজিটাল লেনদেনে অসঙ্গতি মেলে। প্রতারণার টাকা ঢুকছে বলে ডিজিটাল তথ্যও পায় পুলিশ। তারপর গত ২১ আগস্ট বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনার তদন্তে নেমেই পুলিশ একসঙ্গে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম নীতেশ সিং (২২), হর্ষ জৈন (২২), প্রলয় কর (৫৩), দেবাশিস সাহা (২৫), শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (২১) এবং আমনরাজ শর্মা (২২)। প্রথম দু’জনের বাড়ি রাজারহাটে, তৃতীয়জনের বাড়ি বাগুইআটিতে, দেবাশিসের থাকে কাঁকুড়গাছিতে এবং শেষ দু’জনের বাড়ি সল্টলেকে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, প্রলয় ছাড়া বাকিরা অল্প বয়সেই সাইবার প্রতারণার চক্রের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনেক সময় সাইবার প্রতারকরা ভুল বুঝিয়ে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেয়। কিন্তু দেখা গিয়েছে, ধৃতরা নিজেরাই সম্মতি দিয়েছিল। বিভিন্ন সাইবার প্রতারণার টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। ওই টাকা তারা আবার ট্রান্সফার করেছে কিংবা চেক দিয়ে টাকা তুলেছে। কত টাকা লেনদেন হয়েছে, আরও কতজন জড়িত, সবটাই পুলিশ খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, সিমকার্ড বিক্রির চক্রও সক্রিয়। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সিমকার্ড বিক্রির অভিযোগে শুক্রবার ওই চক্রের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। বর্তমানে সে সোদপুরে থাকছিল। বাগুইআটির একটি সেন্টার থেকে সে একই ব্যক্তির নামে চার-পাঁচটি সিমকার্ড ইস্যু করেছে। ওই সিম কার্ডগুলি সাইবার প্রতারণায় ব্যবহৃত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।