Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিভিকদের ভোটের কাজ থেকে দূরে রাখতে বদ্ধপরিকর কমিশন

নির্বাচনের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার বা ভিলেজ পুলিশকে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, তা জানতে সব থানায় তাঁদের ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা।

সিভিকদের ভোটের কাজ থেকে দূরে রাখতে বদ্ধপরিকর কমিশন
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার বা ভিলেজ পুলিশকে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, তা জানতে সব থানায় তাঁদের ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। যে জায়গায় তাঁদের ডিউটি করানোর কথা বলা হয়েছে, সেখানে তাঁরা সত্যিই গিয়েছেন কি না তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিয়ে তাঁদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে পাঠানো হচ্ছে কি না তাই নিয়েও গোপনে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে খবর। বুধবার নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ভোটগ্রহণের ৭২ ঘণ্টা আগে এবং ভোটের ২৪ ঘণ্টা পর তাঁদের পোশাক পরিয়ে কোনো ডিউটি করানো যাবে না। 

Advertisement

সিভিক ও ভিলেজ পুলিশ নিয়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে তাঁদের পাঠানো যাবে না। তদন্তের কাজেও তাঁদের নিয়ে যেতে পারবেন না অফিসাররা। এইসময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাঁরা সহকারীর কাজই করবেন। কিন্তু রাজ্য পুলিশের বেশিরভাগ থানাতেই সিভিকদের দিয়ে সেরেস্তা ডিউটি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলার বহু কাজ করানো হয়। এমনকি, তল্লাশি পর্যন্ত করতে যান তাঁরা। পুলিশের পোশাক পরিয়ে সিভিকদের আইনশৃঙ্খলার ডিউটি করানোরও অভিযোগ রয়েছে। 
এবারের ভোটে সিভিকদের প্রতি বিশেষ নজর রয়েছে কমিশনের। সেই কারণেই বিভিন্ন থানায় গিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষকরা খোঁজ নিচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট থানায় কতজন সিভিক রয়েছেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার জায়গায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে পুলিশ অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকছে, তার মধ্যে কোনো সিভিক আছেন কি না খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন তাঁরা। কোনো কোনো জায়গায় পুলিশ পর্যবেক্ষকরা আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে যুক্ত পুলিশ কর্মীদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যন্ত চাইছেন। তা দেখে তাঁরা বুঝতে চাইছেন, খাতায়-কলমে না-থাকলেও বাস্তবে কোনো সিভিককে দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে কি না। 
একইসঙ্গে থানার ওসি বা আইসিদের পুলিশ পর্যবেক্ষকরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সিভিক বা ভিলেজ পুলিশকে যেন কোনোভাবেই ভোট প্রক্রিয়ায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে কাজে লাগানো না-হয়। কোনোভাবে তা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। হুঁশিয়ার করেছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। কমিশনের নির্দেশ, ভোটের তিনদিন আগে থেকে তাঁদের পোশাক পরিয়ে ডিউটি করানো যাবে না। ভোটের একদিন পরেও একই নিয়ম বলবৎ থাকবে। তবে পুলিশ মহলের একাংশের প্রশ্ন, জেলা পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি সিভিকের উপর নির্ভরশীল। সেক্ষেত্রে এইসময় ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি লন্ডভন্ড হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ