Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শূন্যপদ ও ট্রান্সফার সহ বহু হিসাব দিতে হবে কলেজকে, উদ্যোগী উচ্চশিক্ষা দপ্তর

এবার রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজগুলিকে তথ্যসংবলিত ফর্ম পূরণ করে পাঠাতে বলেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর, খবর এমনটাই। যদিও অধিকাংশ কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কিছুক্ষেত্রে অনলাইনে তথ্য নেওয়া হয়েছে ঠিকই।

শূন্যপদ ও ট্রান্সফার সহ বহু হিসাব দিতে  হবে কলেজকে, উদ্যোগী উচ্চশিক্ষা দপ্তর
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজগুলিকে তথ্যসংবলিত ফর্ম পূরণ করে পাঠাতে বলেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর, খবর এমনটাই। যদিও অধিকাংশ কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কিছুক্ষেত্রে অনলাইনে তথ্য নেওয়া হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেভাবে এখনও কার্যকর হয়নি। ওই ফর্ম অনুযায়ী কলেজগুলির এই মুহূর্তে ‘এমপ্লয়ি স্টেটাস’ অর্থাত্ অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপকসহ কোন পদে কতজন চাকরি করছেন, তার হিসাব  পাঠাতে হবে। এর পাশাপাশি ট্রান্সফারের হিসাব, আরটিআই, বিশাখা সেল, কতজনের প্রোমোশন বাকি রয়েছে—এমন সবকিছুর হিসাব জানাতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশ নয়া সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

Advertisement

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, গত কয়েকবছরে রাজ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু অবসর নেওয়ার ফলে অধ্যাপকদের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনই নতুন নিয়োগও হয়নি। এই তালিকা নেওয়ার ফলে যদি সেই শূন্যপদ পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা সাধুবাদযোগ্য। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বলছিলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরেই তো আমাদের দাবি, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করতে হবে। এই সরকার এখন কোথায় কত শূন্যপদ রয়েছে, তার হিসাব  করছে। এটাই সরকারের কাজ। কিন্তু এখানেই থেমে গেলে হবে না। তার সঙ্গে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগও করতে হবে।’  তার সঙ্গে কলেজগুলিতে পাঠানো ফর্মে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কতজনকে ট্রান্সফার করা হয়েছে, সেই বিষয়টিও জানানোর কথা বলা হয়েছে। পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বলছিলেন, ‘কলেজগুলির জন্য তো কোনোরকমের ট্রান্সফার পোর্টালই ছিল না। একেবারে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এবার যদি সেই বিষয়গুলি সঠিকভাবে দেখা হয়, পূর্বে কোনো অসংগতি ছিল কি না, সেগুলি দেখা হলে ভালো।’
কলেজগুলির গভর্নিংবডির বিবরণও চাওয়া হয়েছে। সেখানে সভাপতি বা সদস্যরা কোন প্রশাসনিক পদে রয়েছে তাও জানাতে হবে। শেষ কবে অডিট হয়েছে, জানাতে বলা হয়েছে সেই বিষয়েও। কলেজে কর্মরত ব্যক্তিরা কোন পদে রয়েছেন এবং তাঁদের গ্রেড পে কত, সেটিও জানাতে হবে। 
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অংশুমান কর বলছিলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে এই উদ্যোগ ভালোই মনে হচ্ছে। শূন্যপদ জানতে চাওয়া মানে আশা করা যায় সেগুলি পূরণের চেষ্টা হবে। কিছু ক্ষেত্রে ট্রান্সফার তৎকালীন সরকারের ইচ্ছামতো হয়েছে বলেই শুনেছি। হতে পারে নিয়ম মেনে বদলি হয়েছে কি না যাচাই করা হবে। প্রোমোশন বাকি আছে জানতে চাওয়া মানে ক্যাসের (কেরিয়ার অ্যাসেসমেন্ট স্কিম) কাজটি দ্রুত করার চেষ্টা হতে পারে। এটা এক ধরনের অ্যাকাডেমিক অডিট। অনেক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে যা সময়মতো না করলে ইউজিসির কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কলেজগুলি যে টাকা পেয়েছে সেগুলি খরচ হয়েছে কি না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। অনিয়ম থাকলে ধরা পড়বে।’

সম্পর্কিত সংবাদ