সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করতে গিয়ে পড়ুয়াদের অ্যাকাডেমিক ক্রেডিট ট্রান্সফারের সমস্যায় ভুগছে রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের ভিন্নতা, মূল্যায়নের তারতম্য থাকার ফলে পড়ুয়াদের এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে ভরতির ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অব ক্রেডিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরের রামানন্দ কলেজে জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় এসে সংবাদমাধ্যমকে একথা বলেন বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রূপকুমার বর্মন।
উপাচার্য বলেন, ইন্টার ইউনিভার্সিটি ক্রেডিট ট্রান্সফার সারাভারতে একটি বড়ো সমস্যা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি যেভাবে চালু করেছি, তা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়নি। ক্রেডিট ট্রান্সফারের সমস্যার সমাধানের জন্য রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে। তার ভিত্তিতে চারটি মডেল আমরা বিশ্বদ্যিালয় থেকে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধিকারিকদের নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিনের সেমিনারে জাতীয় শিক্ষানীতির কীভাবে প্রয়োগ হচ্ছে সেই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সালে চালু হলেও আমাদের রাজ্যে ২০২৩-২৪সালে তা লাগু হয়। শিক্ষানীতির সমস্ত নিয়ম ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। তবে পড়ুয়াদের ক্রেডিট ট্রান্সফারের ব্যবস্থা থাকলেও তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক জটিলতা দেখা যাচ্ছে। তার কারণ হল এখনো সব বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। তাছাড়া এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমের সঙ্গে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমের বহু অমিল রয়েছে। এর ফলে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা পড়ুয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি হওয়ার সময় আগে অর্জিত ক্রেডিট পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ক্রেডিট পয়েন্ট আলাদা হয়। অনেক গ্রামীণ কলেজ অ্যাকাডেমিক ব্যাংক অব ক্রেডিট(এবিসি) পোর্টালে শিক্ষার্থীদের ডেটা সঠিকভাবে আপলোড হয়নি। ক্রেডিট মুল্যায়নের জন্য ইউজিসি নির্দেশিকা দিলেও অনেক কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে উদাসীনতা রয়েছে। পড়ুয়াদের অর্জিত ক্রেডিটের বৈধতা সাতবছর মেয়াদের কথা বলা হলেও মাঝে ছেদ ঘটলে পুনরায় ভরতির ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পূর্ণ রূপে কার্যকর করতে একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা শুধু বাঁকুড়া নয়, গোটা দেশেই রয়েছে বলে এদিনের সেমিনারে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র