নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট আটকে রেখে কোর্স ফি’র টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। এক পড়ুয়ার দায়ের করা মামলার রায়ে এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল হাইকোর্ট।
এমডিএস কোর্স করতে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ভরতি হয়েছিলেন এক দন্ত চিকিৎসক পড়ুয়া। শিক্ষাগত যোগ্যতার যাবতীয় সার্টিফিকেট জমা রেখে কোর্স ফি হিসাবে একলপ্তে সাড়ে ন’লক্ষ টাকা জমাও দিয়েছিলেন তিনি। শর্ত ছিল, কোর্স চলাকালীন ফি’র বাকি টাকা জমা দিতে হবে। কিন্তু বিপত্তি বাধে দিন কয়েকের মধ্যেই। কলেজের পরিকাঠামো পছন্দ না হওয়ায় মাত্র ছ’দিন ক্লাস করার পর আর সেখানে যাননি ওই পড়ুয়া। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়ার যাবতীয় সার্টিফিকেট আটকে রেখে বাকি টাকা মিটিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছিল ওই বেসরকারি কলেজ। উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
মামলার বয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, বিডিএস কোর্স শেষ করার পর ‘নিট’ পরীক্ষায় বসেছিলেন ওই পড়ুয়া। নিটে ৮৪৭৮ র্যাঙ্ক করার পর তৃতীয় পর্বের কাউন্সেলিংয়ে হলদিয়ার ওই বেসরকারি কলেজে ভরতি হয়েছিলেন তিনি। গোটা কোর্সের খরচ ছিল ২৭ লক্ষ টাকা। প্রথম পর্বে কোর্সের জন্য তাঁকে ৯ লক্ষ টাকা এবং ভরতিসহ অনান্য খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। সেই সঙ্গে তাঁকে বিডিএস কোর্সের সার্টিফিকেট, শিক্ষাগত যোগ্যতার অন্য শংসাপত্র এবং ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা রাখতে বলা হয়। কিন্তু ছ’দিন কলেজ করার পর তিনি দেখেন, ওই কোর্সের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই কলেজে। তাই তিনি কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে ই-মেল করে তাঁর কোর্স ফি এবং জমা রাখা সার্টিফিকেট ফেরত দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ বেঁকে বসে। তারা জানিয়ে দেয়, প্রথমার্ধের কোর্স ফি বাবদ মোট ১৮ লক্ষ টাকা জমা না করলে সার্টিফিকেট ফেরত দেওয়া হবে না।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলার শুনানিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়, মামলাকারী প্রথমার্ধের কোর্স শেষ করবেন, এই মর্মে বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। তাই বকেয়া অর্থ না মেটালে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে সার্টিফিকেট ফেরত দিতে বাধ্য নয়। কিন্তু এই বক্তব্য খারিজ করে বিচারপতি রাও পর্যবেক্ষণে জানান, এক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়ুয়ার ফি বাবদ দেওয়া টাকা ফেরত সংক্রান্ত ইউজিসি গাইডলাইন মানতে বাধ্য। এরপরই বিচারপতি নির্দেশে জানিয়ে দেন, দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই পড়ুয়ার যাবতীয় সার্টিফিকেট ও ফি বাবদ দেওয়া সাড়ে ন’লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে।



