ভোপাল ও নয়াদিল্লি: ছাত্র আন্দোলনের সাফল্যের পর এবার আরও দীর্ঘ আন্দোলনের পরিকল্পনা ককরোচ জনতা পার্টির! লড়াইয়ে সমাজের অন্যান্য অংশকেও সামিল করার উদ্যোগ। এই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার রাকেশ টিকায়েত সহ ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করল সিজেপি। উপস্থিত ছিলেন সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সহ আরও কয়েকজন। লক্ষ্য— কৃষক, ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে একটি বৃহত্তর মঞ্চ গঠন। এপ্রসঙ্গে আশুতোষ রাঙ্কার বক্তব্য, ‘আশা করছি, আমাদের কৃষক ভাই, ছাত্রছাত্রীরা ও দেশের তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করবে এবং মোদি সরকারকে সমস্ত দিক দিয়ে ঘিরে ধরবে।’
সূত্রের খবর, পড়ুয়াদের উপর পুলিশি দমন-পীড়ন রুখতে কৃষক সংগঠনের সহায়তা চেয়েছে ককরোচরা। উভয়ের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছে। এর আগে যন্তরমন্তরে হাজির হয়েছিলেন টিকায়েত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের কথায়, দেশের নানা প্রান্ত সহ মধ্যপ্রদেশেও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কৃষকরা। এই পরিস্থিতিতে কৃষক সংগঠনের সঙ্গে ককরোচদের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে বড়োসড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
এরইমাঝে কৃষক বিক্ষোভ শুরু মধ্যপ্রদেশে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ১০০ শতাংশ মুগডাল সংগ্রহ। ই-টোকেন সিস্টেমের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান। সময়মতো সঠিক মূল্যে সারের জোগান। এমনই একাধিক দাবিতে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে পথে নেমেছে কৃষকরা। সোমবার রাতের দিকে সরকার বিরোধী স্লোগান তুলে সেহরের বুধনিতে পৌঁছায় আন্দোলনরত চাষিরা। মঙ্গলবার কৃষক রোষ আছড়ে পড়ে রাজধানী ভোপালে। এদিন গভীররাত পর্যন্ত পথেই ছিলেন তাঁরা। এর জেরে রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যায় ব্যস্ততম নর্মদাপুরম হাইওয়ে। চাপে পড়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হয় সরকার। সমস্যার সমাধানে মন্ত্রীদের নিয়ে একটি পৃথক প্যানেলও গঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই ভোপালে ভয়াবহ রূপ নেয় কৃষক আন্দোলন। সরকারের বারংবার আশ্বাস সত্ত্বেও রাতভর রাস্তাতেই কাটান চাষিরা। বুধবার এনিয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে কৃষক কল্যাণ বর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। চাষিদের সমস্যার কথা শুনতে মন্ত্রীদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের পাশে রয়েছে সরকার।