


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ফের খনি অঞ্চলে ধরা পড়ল কয়লার হেরাফেরি। নিপুন কৌশলে চলছে কালো হিরেকে নিয়ে বাটপাড়ি। এ নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চলে।
কীভাবে চলছে এই বাটপাড়ি? উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গিয়েছে, কোলিয়ারি থেকে কয়লা বোঝাই করে ডাম্পার রওনা দিল কোনও সাইডিংয়ের পথে। এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের পথ। ইসিএলের ওই সাইডিংয়ে সেই ডাম্পার ঢুকতেই দেখা গেল, ডাম্পারে কয়লার নামগন্ধ নেই। রয়েছে পাথর! ইসিএলের জিপিএস সিস্টেম লাগানো ডাম্পার থেকেই এভাবে টন টন কয়লা লুটের ঘটনার প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে খনি অঞ্চলে। এক সময় কয়লা সিন্ডিকেট চালু থাকার সময়ে এভাবেই মাঝ পথে ডাম্পার ডাম্পার কয়লা গায়েব হয়ে যেত। ফের সেই কয়লা সিন্ডিকেট কী সক্রিয় হয়ে উঠছে, প্রশ্ন খনি অঞ্চলের।
ইসিএলের সূত্রে জানা গিয়েছে, জামুড়িয়া থানার নিঘায় গড়ে ওঠেছে একটি ওসিপি। সেই ওপেন কাস্ট প্রজেক্ট থেকে কয়লা বোঝাই ডাম্পারগুলিকে আনা হয় জামুড়িয়া থানা এলাকার মর্ডান সাতগ্রাম সাইডিংয়ে। বিপুল পরিমাণ কয়লা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। ইসিএলের নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারি থাকে। পাশাপাশি, প্রতিটি ডাম্পারে জিপিএস সিস্টেম লাগানো থাকে। যাতে নির্দিষ্ট রুটে কয়লা বোঝাই ডাম্পার যাতায়াত করছে কিনা বোঝা যায়। শুক্রবার একটি ডাম্পার যথারিতি সাইডিংয়ে ঢুকে কয়লা নামাতে থাকে। তখনই কয়লা নামাতে বাধা দেন সাইডিংয়ের ইসিএলের নিরাপত্তারক্ষী ভোলানাথ মাজি। তিনি দেখেন কয়লা নয়, নামানো হচ্ছে কালো পাথর। খবর যায় শীর্ষ কর্তাদের কাছে। ইসিএলের নিয়ম অনুযায়ী, সাইডিং কর্তৃপক্ষ কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষকে ডেকে জানতে চায়, এই সামগ্রী তাঁদের ওখান থেকে লোড হয়ে ছিল কিনা। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের ওখান থেকে উন্নতমানের কয়লা লোড হয়েছিল। ডাম্পারে থাকা সামগ্রী তাঁদের নয়। এরপরই গাড়ি ও চালককে জামুড়িয়া থানার হাতে তুলে দেয় ইসিএল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, নির্দিষ্টভাবে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জামুড়িয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়িতে অভিযোগও জমা করা হয়।
ইসিএলের জে কে নগর কোলিয়ারি এজেন্ট মনোজ কুমার বলেন, ‘এই চুরি ধরার পিছনে পুরো কৃতিত্ব ভোলানাথ মাজির। উনি তৎপর হয়ে কয়লা যাচাই না করলে এই লুট ধরা পড়ত না। তাঁকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা পরে গোটা সিস্টেমটি খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছি, ডাম্পারটি এক ঘণ্টা আমাদের দেওয়া নির্ধারিত রুটের বাইরে ছিল। সেই সময়েই এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়লার বদলে যা ডাম্পারে চাপানো হয়েছিল তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’ জামুড়িয়া থানার পুলিস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে শনিবার মামলা রুজু করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খনি অঞ্চলে কয়লা চুরির নানা পদ্ধতি রয়েছে। কয়লা চুরি ঠেকাতে তাই ইসিএলের কর্তৃপক্ষও নানা প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। তা সত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না চুরি। অনেকের অভিযোগ, সর্ষের মধ্যে ভুত থাকার জন্যই এই ঘটনা ঘটছে। ব্যতিক্রমী ভূমিকা নেন ভোলানাথ মাজি। তাঁকে সেটিং করতে না পারাতেই পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। কিছুদিন আগে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি অভিযোগ করেছিলেন, কয়লার পরিবর্তে কালো পাথর মিশিয়ে ওজনের গরমিল করছে কিছু অসাধু ইসিএলের আধিকারিক। মূলত, এবার দেখা গেল মাঝ রাস্তায় কয়লা লুট হচ্ছে। আসানসোল সিবিআই বিশেষ আদালতে কয়লা লুটের মামলার শুনানি চললেও খনি অঞ্চলে যে কয়ুলা লুট অব্যাহত, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।