নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের বিচারে লড়াইটা ডেভিড বনাম গোলিয়াথের। এশিয়ার অন্যতম পাওয়ার হাউস ইরান রয়েছে ২০ নম্বরে। আর ভারতের অবস্থান ১৩৩। অর্থাৎ ১১৩ ধাপ নীচে। তবে কোচ খালিদ জামিলের প্রশিক্ষণে কাফা নেশনস কাপে শুরুটা দারুণ করেছে ব্লু টাইগার্স। দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের অনুপস্থিতিতেও তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারতীয় দল। সেই সুবাদে দীর্ঘ এক বছর পর কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে পুরো পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়েন আনোয়ার আলিরা। সোমবার হিসারের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ইরানের বিরুদ্ধে কার্যত অগ্নিপরীক্ষা। আর সেই লড়াইয়ে নামার আগে প্রথম ম্যাচের জয়ই মোটিভেশন খালিদ-ব্রিগেডের। মুম্বইকর কোচের হাত ধরে রক্ষণ জমাট রেখে আরও এক উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মেলে ধরাই লক্ষ্য সন্দেশ-গুরপ্রীতদের।
ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে ছ’বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত। এর মধ্যে দু’বার জয়ের মুখ দেখেছে টিম ইন্ডিয়া। তাও ছয় দশক আগে। আর চারবার শেষ হাসি হেসেছে মেল্লি-ব্রিগেড। ১৯৫৯ সালে এরনাকুলামে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। সেবার চুনী গোস্বামী, ইউসুফ খান ও তুলসীদাস বলরাম জাল কাঁপিয়েছিলেন। অন্য জয়টি এসেছিল ১৯৫১ সালে। তবে ২০১৬ সালে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে দুই দলের শেষ সাক্ষাতে ভারতকে ৪-০ গোলে চূর্ণ করে ইরান। সেই দলের দু’জন সদস্য বর্তমান দলেও রয়েছেন। এমন কঠিন লড়াইয়ে সন্দেশ ও গুরপ্রীতের অভিজ্ঞতা বড় ভরসা কোচ খালিদের। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যে কোনও টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করাটা সবসময় ইতিবাচক। তবে ইরান এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল। ফলে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ছেলেরা সেরাটা মেলে ধরতে তৈরি। গত ম্যাচের পর মাত্র দু’দিন সময় মিলেছে। চেষ্টা করেছি ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়ার।’
গত ম্যাচে দুই ডিফেন্ডারের গোলে জয় পেয়েছিল ভারত। সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে স্ট্রাইকারদের আরও বেশি তাগিদ দেখাতে হবে। কোচ খালিদ অবশ্য টিমগেমেই ভরসা রাখছেন। তাঁর সংযোজন, ‘কোনও একটি বিভাগের উপর জোর দিলে হবে না। আমাদের একজোট হয়ে লড়তে হবে।’ উল্লেখ্য, ইরান আপফ্রন্টের অন্যতম ভরসা মেহদি তারেমি গত মরশুমে ইন্তার মিলানের হয়ে খেলেছেন। তাঁকে শান্ত রাখাই ভারতীয় ডিফেন্ডারদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচ শুরু ৫-৩০ মিনিটে।
সরাসরি ফ্যানকোড অ্যাপে।