রক্ষণের ব্যর্থতায় ফের প্রশ্নের মুখে কোচ হাবাসের স্ট্র্যাটেজি, দু’বার এগিয়ে থেকেও হার ইস্ট বেঙ্গলের
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইস্ট বেঙ্গল- ২            :              আল শোর্তা- ৩
(ডেভিড-২)                  (হাজাজ, সায়েদি, কুকু)

Advertisement

সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: দৃষ্টিনন্দন নয়, কার্যকরী ফুটবলে বিশ্বাসী আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তবে ইস্ট বেঙ্গলে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে তাঁর স্ট্র্যাটেজি। বিশেষ করে রক্ষণ সংগঠনে দুর্বলতা। মঙ্গলবার দুরন্ত শুরু করেও দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণের ভরাডুবিতেই খেসারত দিতে হল ইস্ট বেঙ্গলকে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আল শোর্তার বিরুদ্ধে দু’বার লিড নিয়েও জয় হাতছাড়া লাল-হলুদ ব্রিগেডের। ২-৩ ব্যবধানে বশ মানলেন আনোয়াররা। বিফলে ডেভিডের জোড়া গোল। আল শোর্তার হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন যথাক্রমে আহমেদ আল-হাজাজ, হুসেইন আল-সায়েদি ও কিংসলে কুকু।
শিল্ড ফাইনালে ডার্বিতে হারের পর এসিএলটু’তেও ব্যর্থতা! আইএসএলে অভিযান শুরুর আগে প্রবল চাপে ইস্ট বেঙ্গল। ১৮ অক্টোবর চার্চিল ব্রাদার্স ম্যাচের আগে টিম গোছাতে না পারলে দুঃখ বাড়বে হাবাসের। এদিন আল শোর্তার বিরুদ্ধে ৫-৪-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন তিনি। হাতে দুই বিদেশি স্ট্রাইকার থাকা সত্ত্বেও ডেভিডের উপর আস্থা রাখেন স্প্যানিশ কোচ। প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে ফের জাত চেনালেন মিজো ফুটবলার। ম্যাচের নবম মিনিটে তাঁর লক্ষ্যভেদেই লিড নেয় ইস্ট বেঙ্গল (১-০)। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৪ মিনিটে বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে আল-সায়েদির ভাসানো সেন্টারে হেডে লক্ষ্যভেদ আহমেদ আল-হাজাজের (১-১)। এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারেন না রশিদ। ২১ মিনিটে অবশ্য আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল হোম টিমের। কিন্তু লালচুংনুঙ্গার দূরপাল্লা শট রুখে দেন শোর্তার দুর্গপ্রহরী। ৪০ মিনিটে অবশ্য কোনো ভুল হয়নি ডেডিডের। ফ্রি-কিক থেকে রামিরেজের শট রুখলেও বিপন্মুক্ত করতে ব্যর্থ বিপক্ষ গোলরক্ষক। ফিরতি বলে রশিদের ব্যাক হিল ধরে জাল কাঁপান মিজো স্ট্রাইকার (২-১)। এই পর্বে ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলেরই দাপট ছিল। পরপর দু’টি সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে হ্যাটট্রিক পেতেই পারতেন ডেভিড।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের চিত্র উলটো। কলকাতায় পা রাখার আগে ইস্ট বেঙ্গলকে নিয়ে আল শোর্তা যে যাবতীয় হোমওয়ার্ক সেরে এসেছিল তা বোঝা গেল। লাল-হলুদ ব্রিগেডের দুর্বলতা কাজে লাগাতে আর্জেন্তাইন মিডিও ক্রিশ্চিয়ান বার্কোকে মাঠে নামান কোচ ত্রাবেলসি। এই পরিবর্তনই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। এক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল হজম করে ইস্ট বেঙ্গল। ৫১ মিনিটে হার্দিক ভাট বল দখলের লড়াইয়ে পরাস্ত হতেই আল হাজাজের সেন্টার থেকে জয় গুপ্তাকে টপকে জাল কাঁপান হুসেইন আল-সায়েদি (২-২)। এই গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ম্যাচে তৃতীয়বারের জন্য পরাস্ত হন গিল। এক্ষেত্রে কর্নার থেকে বার্কোর ভাসানো সেন্টারে দুরন্ত হেডে জাল কাঁপান কিংসলে কুকু (৩-২)। ঘরের মাঠে প্রথমবারের জন্য পিছিয়ে পড়ে খাবি খেতে থাকে ইস্ট বেঙ্গল। বিশেষত মাঝমাঠে রশিদের অফ ফর্ম বারবার চোখে পড়েছে। এরইমধ্যে ৭৫ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড মাঠ ছাড়েন আল শোর্তার মৌমৌনি। আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগাতে দুই বিদেশি স্ট্রাইকারকে নামান হাবাস। তবে রক্ষণে জিভুলিচ থাকলে কোনো অ্যাডভান্টেজই কাজে আসে না। গোল শোধ করা তো দূর অস্ত, অফসাইডের কারণে শোর্তার গোল বাতিল না হলে হাবাস ব্রিগেডের লজ্জা আরও বাড়ত।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন, হার্দিক (বিপিন), আনোয়ার, জিভুলিচ, লালচুংনুঙ্গা, জয় গুপ্তা, জিকসন, রশিদ, এডমুন্ড, রামিরেজ (লোবা) ও ডেভিড (লুকাস)।