বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য: আইএফএ শিল্ডে সদ্য চ্যাম্পিয়ন মোহন বাগান। খেতাবি লড়াইয়ে ইস্ট বেঙ্গলকে সব বিভাগেই টেক্কা দিয়েছিল ছাংতেরা। আইএসএলের প্রথম ম্যাচের আগে তাই পানোস ব্রিগেডকে নিয়ে কৌতূহল ছিলই। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ তারা। নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে হার সমর্থকদের নিশ্চিতভাবে হতাশ করবে। তবে আমার ধারণা, ফাইন টিউন করতে পারলে মোহন বাগান ঘুরে দাঁড়াবেই। সবটাই নির্ভর করছে গ্রিক কোচের উপর। শীর্ষ লিগে শুরুতেই হোঁচট খেয়ে বেজায় চাপে তিনি। সমস্যা মিটিয়ে দলকে সাফল্যের সরণিতে আনার দায়িত্ব পানোসকেই নিতে হবে। বলতে দ্বিধা নেই, দলের খেলায় প্ল্যান ‘বি’র প্রবল অভাব। অন্যথায় গুয়াহাটি থেকে খালি হাতে ফিরতে হত না মোহন বাগানকে।
কথায় বলে ‘অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স।’ কাগজে-কলমে মোহন বাগানের আপফ্রন্ট দেশের সেরা। কিন্তু জেমি ম্যাকলারেনের অনুপস্থিতি বড়ো ফ্যাক্টর। স্কটিশ স্ট্রাইকার লি আরউইন বেশ সফট। মার খেলে গুটিয়ে যায় কিনা সময় বলবে। তবে ম্যাকলারেন অনেক বেশি ধারালো। দলের স্বার্থে ম্যাকার দ্রুত ফিট হওয়া জরুরি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেনালি ব্রিগেডের উপর বেশ চাপ বাড়িয়েছিল মোহন বাগান। এই ১০-১৫ মিনিটের স্পেলে লক্ষ্যভেদ খুবই জরুরি। না হলে ঝাঁঝ কমতে বাধ্য। একই স্পেলে সারাক্ষণ আক্রমণ সম্ভব নয়। গোল না হওয়ায় ক্রমশ ম্যাচের দখল হারাল ছাংতেরা। পাশাপাশি চিন্তা বাড়াচ্ছে মিগুয়েলও। ব্রাজিলিয়ান এই বল প্লেয়ারকে নিয়ে অনুরাগীদের প্রবল প্রত্যাশা। কিন্তু লিস্টনের মতো মিগুয়েলও একেবারে পানসে। বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস হোক বা ইস্ট বেঙ্গল, অস্কার ব্রুজোঁর কোচিংয়ে খেলেছে মিগুয়েল। এবার নতুন কোচ, সিস্টেমও আলাদা। মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে কি? তেমনটা হলে ওর সঙ্গে কথা বলা উচিত পানোসের। রাতারাতি একজন গেমচেঞ্জারের পারফরম্যান্স গ্রাফ এভাবে নামতে পারে না। লিস্টন কোলাসোও অতীতের ছায়া। গত কয়েকটি মরশুমে মোহন বাগানের সাফল্যে এই গোয়ানিজ উইং হাফের অবদান কম নয়। কিন্তু ওর খেলা ধরে ফেলেছে বিপক্ষ। কোচ পানোসের হাতে সোনায় মোড়া স্কোয়াড তুলে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই দলের এমন পারফরম্যান্স একেবারে অপ্রত্যাশিত।
পেড্রো বেনালি বুদ্ধিমান কোচ। কয়েকদিন আগেই আইএফএ শিল্ডে ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ৭-২ গোলে পরাস্ত হয়েছিল তারা। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দলকে নিয়ে মোহন বাগানকে হারানো নিঃসন্দেহে তারিফযোগ্য। শুরুতে আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প কার্ড জিতিন এমএসকে দ্বিতীয়ার্ধের জন্য তুলে রাখলেন তিনি। জিতিন উইং থেকে দৌড় শুরু করতেই চাপে পড়ল আলবার্তোরা। এই দৌড়ের বড্ড অভাব ছিল মোহন বাগানে। অ্যাওয়ে ম্যাচে নর্থ ইস্ট কিন্তু হলুদ কার্ড দেখিয়ে রাখল। এরপরেও পানোস সতর্ক না হলে সমস্যা বাড়বে।



