কার্লোস কুয়াদ্রাত: একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে মার্কিন মুলুকে কাপযুদ্ধের পা রেখেছিল আমার মাতৃভূমি স্পেন। লুই ডে লা ফুয়েন্তের প্রশিক্ষণে গত তিন বছর দারুণ ছন্দে স্প্যানিশ আর্মাডা। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বুঁদ গোটা দেশ। বার্সেলোনায় বসে তা ভালোই টের পাচ্ছি। তবে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে অনামী কেপ ভার্দের মোটেই ভালো খেলতে পারেনি স্পেন। আপফ্রন্টে একজন দক্ষ স্কোরারের অভাব এবার ভোগাতে পারে ফুয়েন্তে ব্রিগেডকে। ফেরান তোরেস কিংবা ওয়ারজাবালদের মধ্যে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। ক্লাব ফুটবল আর দেশের জার্সিতে খেলার মধ্যে পার্থক্য অনেক। তাছাড়া মর্ডান ফুটবলে উইং প্লে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস শুরু থেকে দলে না থাকায় ভুগেছে স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে লামিনে নামতে কিছুটা সেই দুর্বলতা মিটেছিল। তবে গোল আসেনি। সুতরাং, রবিবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জয়ের সরণিতে ফিরতে সবার আগে এই জায়গায় জোর দেওয়া উচিত ফুয়েন্তের।
চার বছর আগে বিশ্বকাপের আসরে প্রথম ম্যাচেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল এশিয়ার দেশটি। এবারও শুরুটা দারুণ হয়েছে তাদের। অতীতে ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডের সহকারী হিসেবে সৌদির জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তখন রমজান মাসে রাত দুটোর সময় অনুশীলন রাখা হত। যাতে ফুটবলাররা ডিনার সেরে মাঠে নামতে পারে। এমনকি, সেখানকার ফুটবলাররা সেসময় দেশের বাইরে কোনো লিগে খেলতে পছন্দ করত না। বর্তমানেও সেই রীতি অব্যাহত। এই দলে আবদুল হামিল একমাত্র ফ্রান্সের লেন্সে খেলে। যাই হোক, আমি নিশ্চিত উরুগুয়ে ম্যাচের মতো রবিবারও ড্রয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামছে তারা। কারণ শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জিতলে পাঁচ পয়েন্টে পৌঁছবে সৌদি। সেক্ষেত্রে অনায়াসেই পরের রাউন্ডের টিকিট পাবে ওরা। আর স্পেন ও উরুগুয়ের কাছে হয়ে দাঁড়াবে মাস্ট উইন ম্যাচ।
সৌদির বিরুদ্ধে ড্যানি ওলমোকে প্রথম একাদশে থাকাটা খুবই জরুরি। গত ম্যাচে ও নামার পরেই ম্যাচের সেরা সুযোগটা পেয়েছিল স্পেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গোল আসেনি। তা’ও বলব, ওলমো আর ইয়ামাল শুরু থেকে খেললে এই স্পেনের চেহারা বদলে যাবে। ২০১২ সালে সৌদির বিরুদ্ধে ৫-০ জিতেছিল স্পেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আটকানোর কোনোরকম পন্থাই ছিল না আমাদের হাতে। তবে সেই সৌদির সঙ্গে বর্তমান দলের পার্থক্য অনেক। এবার কিন্তু কাজটা সহজ হবে না।