নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বীরসিংহ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার জের, বন্যা কবলিত আরামবাগ মহকুমার কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারীরাও পেতে পারেন সরকারি সাহায্য। এই ব্যাপারে রাজ্যের তরফে হুগলি জেলা প্রশাসনকে তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে বলে খবর। তার ফলে শীঘ্রই বন্যা কবলিত আরামবাগ মহকুমাতেও কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কাঁচা বাড়ির তালিকা প্রস্তুত করতে রাজ্যের তরফে নির্দেশ এসেছে। সেইমতো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে কাঁচা বাড়ির সার্ভে হবে।
বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, মখ্যমন্ত্রীর মানবিক মুখ। বন্যা দুর্গতদের কাঁচাবাড়ির তালিকা আমরা শীঘ্রই তৈরি করব। এদিন বীরসিংহ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় যত কাঁচা বাড়ি তার তালিকা তৈরি করবেন জেলাশাসক। বিডিও, বিধায়করা সাহায্য করবেন। পুলিশের থেকেও তথ্য নেবেন। প্রত্যেকটা কাঁচা বাড়ি, তা সে বাড়ি অ্যাসবেস্টসের হতে পারে, টালি, টিন বা খড় দিয়ে তৈরি। যারা পাকা বাড়িতে থাকেন না, এমন বাসিন্দা যাঁরা আবাসের বাড়ি তৈরি করেননি, প্রত্যেক বানভাসি কাঁচাবাড়িতে বসবাসকারীদের আমি এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তার তালিকা দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বীরসিংহ থেকে আমন চাষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধানমন্ত্রী শস্যবিমার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঘাটালের পাশাপাশি আরামবাগ মহকুমার খানাকুল, গোঘাট ১ প্রভৃতি এলাকাতেও এবার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জল জমে রয়েছে নীচু এলাকাগুলিতে। জল ঢুকেছে বাড়িতে, স্কুলে। রাস্তাতে কোথাও বুক সমান, কোথাও কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার জেরে খানাকুলে জমা জলে দুর্ভোগ অব্যাহত। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নৌকায়, ট্রাক্টরে চেপে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের পাশাপাশি বুধবারও খানাকুলের পানশিউলি থেকে মারোখানা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের ট্রাক্টরে করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন উচ্চ মাধ্যমিকের ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। মারোখানা হাই স্কুলে ৯৩ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারমধ্যে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থীকে নৌকা, ট্রাক্টরে চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস বেজ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় এখনও বুক সমান জল রয়েছে। জল পেরিয়ে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন আমরা পরীক্ষার্থীদের কয়েকজনকে পানশিউলি থেকে ট্রাক্টরে করে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি। সঙ্গে পুলিশও ছিল।
মারোখানার বাসিন্দা স্বরূপ পাত্র বলেন, নদী ভর্তি থাকায় জোয়ারের সময় জল আরও বাড়ছে। মূল রাস্তার কোথাও জল কমেছে। কোথাও আবার কোমর সমান জল রয়েছে।
ধলডাঙা এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চন মাজি বলেন, আগের তুলনায় জল সামান্য কমেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমার বাড়ির একতলায় জল জমে রয়েছে। আরও কিছুদিন জল থাকবে বলে মনে হচ্ছে। আরামবাগ মহকুমা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, এদিন খানাকুল ১ ও ২ ব্লকে প্রায় ৭০টি শিবিরে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, এদিন খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষও নৌকা নিয়ে দুর্গত এলাকায় গিয়ে শুকনো খাবার বিলি করেন।