Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির মেঘ, তেলের দাম নিয়ে চিন্তায় দিল্লি, ইরানের পাশে দাঁড়াক ভারত, দাবি কংগ্রেসের

পশ্চিম এশিয়া অশান্ত হলে সবসময় ভারতের প্রধান চিন্তা হয়, পেট্রপণ্যের দামের কী হবে। এবারও ঠিক তাই হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির মেঘ, তেলের দাম নিয়ে চিন্তায় দিল্লি, ইরানের পাশে দাঁড়াক ভারত, দাবি কংগ্রেসের
  • ১ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়া অশান্ত হলে সবসময় ভারতের প্রধান চিন্তা হয়, পেট্রপণ্যের দামের কী হবে। এবারও ঠিক তাই হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সবথেকে বড় যে সংকট সেটি হল, সস্তার খোঁজে ভারত আর রাশিয়ার দিকে নতুন করে ঝুঁকতে পারবে না। আমেরিকার হুঁশিয়ারিই রয়েছে সেই বিষয়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম কিছুদিনের মধ্যেই ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর তার জেরে দেশিয় বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়াটা সময়ের অপেক্ষা। কতদিন এই যুদ্ধ চলবে তার উপর নির্ভর করছে সেই আশঙ্কা কতদূর পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। ভারত কিছুদিন ধরেই বেশি করে ব্রেন্ট অয়েল কিনতে শুরু করেছে। কারণ সেরকমই শর্ত রয়েছে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে। অর্থাৎ রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়ে দেওয়া। এদিকে ইরানের উপর আক্রমণের পর ইরান ও ইজরায়েলে বসবাসকারী ভারতীয়দের  প্রতি সতর্কতা জারি করলেও যুদ্ধ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বিদেশ মন্ত্রক। ইরানের উপর আক্রমণের পর তেহরান যেহেতু পালটা পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও মিসাইল হামলা করেছে, তাই, যুদ্ধের কালো ছায়া ক্রমেই বড় হচ্ছে। কারণ ইরানের মিসাইল আক্রমণের আওতায় মার্কিন ঘাঁটি যে দেশগুলিতে রয়েছে, সেগুলির মধ্যে সিরিয়া, কাতার, ইরাক, বাহরিন, সৌদি আরব রয়েছে। ইতিমধ্যেই ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়েছে বাহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। এই যুদ্ধ  ভারতের জন্য সবথেকে বড় যে অনিশ্চয়তা তৈরি করল, সেটি হল ইরানের চাবাহার বন্দর। এখানে কয়েক হাজার কোটি টাকা লগ্নি হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের গদর বন্দরের পালটা এই বন্দর স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।  মোদি সরকারকে বিরোধীরা শনিবার প্রশ্ন করেছে যে, ভারত এতটা ভীতু রাষ্ট্র কোনোদিন ছিল না। নরেন্দ্র মোদির উচিত ইরানের পাশে দাঁড়ানো। কংগ্রেস বলেছে, ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রসংঘ কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনকে দিয়ে একটি নিন্দাপ্রস্তাব পাশ করানোর চেষ্ট করেছিল। ভারতের বিদেশমন্ত্রী দীনেশ সিং অসুস্থ হয়ে এইমসে ভর্তি ছিলেন। ওই অবস্থায় তিনি তেহরান যান। ইরানের কাছে অনুরোধ করেন যাতে তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ওই প্রস্তাব আটকে দেয়। ইরান ভারতের হয়ে বন্ধুকৃত্য করেছিল। ইসলামিক কোঅপারেশন রাষ্ট্রগোষ্ঠী ‌ইরানের অনুরোধে ওই নিন্দাপ্রস্তাব আনেনি। ভারতের সম্মান রক্ষা করে ইরান। আজ সেই ইরানে যখন আক্রমণ করার সব বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলেছিল ইজরায়েল, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‌ইজরায়েলে গিয়ে  তাদের স্তুতি করে এসেছেন। আর সেই সময় মোদির হাজিরাতেই সব পরিকল্পনা চুড়ান্ত ছিল যে, মোদি ফিরলেই আক্রমণ হবে ইরানে। তাই হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অনেক প্রাচীন। তাই ইরানের পাশে ভারত দাঁড়াক বলে দাবি করেছে কংগ্রেস।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ