নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘেমে নেয়ে হাঁসফাঁস করতে হয়েছে বটে তবে মেনে নিতেই হবে যে, কলকাতায় এপ্রিল কিছুটা ‘শীতলই’ ছিল। অন্তত আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব সে কথারই প্রমাণ দিচ্ছে। অন্যান্যবারের তুলনায় এবছর এপ্রিলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কম। তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাত্র চারদিন (৩, ৫, ৬ এবং ২৩ তারিখ) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি ছিল। সবথেকে বেশি ২৩ এপ্রিল তা ৩৮.২ ডিগ্রি ছুঁয়েছিল। ছিল স্বাভাবিকের থেকে ২.৮ ডিগ্রি বেশি। এটাই এ মাসের রেকর্ড। বাকি দিনগুলি তাপমাত্রা ছিল কম। রসিকরা বলছেন, ‘তাহলে তো বলতে হয় এ গরম মনোরম।’
তবুও ঘেমেছে মানুষ। অস্বস্তিতে নাজেহাল হয়েছে। কেন? আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এর কারণ গরমজনিত উত্তাপ নয়। অস্বস্তির কারণ, অস্বাভাবিক আর্দ্রতা। এখন ‘ফিল লাইক’ বলে অস্বস্তিসূচকের যে মাপকাঠি ব্যবহার হয়, তা ছিল অত্যধিক। ফলে হাঁসফাঁস করতে হয়েছে শহরবাসীকে।
এরই মাঝে জানা গিয়েছে, এপ্রিলের বাকি একদিন এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এ মনোরম গরমের বিশেষ হেরফের হবে না। তার উপর যদি ঝড়-বৃষ্টি হয় তাহলে তো কথাই নেই। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও কমে যাবে। বৃষ্টি না হলেও ৩৫ ডিগ্রির আশপাশেই থাকবে। সোমবারও কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৮ ডিগ্রি। যা এই সময়ের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার থেকে ১.৮ ডিগ্রি কম।
এপ্রিল মাস। খর বৈশাখ। তাও কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছোঁয়নি। অথচ গত দু’বছরে (২০২৩ এবং ২০২৪) এই এপ্রিলেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাপ কম হওয়ার কারণ হিসেবে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘এপ্রিলজুড়ে দক্ষিণবঙ্গে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়েছে। কলকাতায় যদিও কয়েকদিন মাত্র ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় মেঘ থাকার প্রভাব পড়েছে শহরে। আংশিক মেঘাচ্ছন্ন পরিস্থিতি অধিকাংশ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিশেষ বাড়তে দেয়নি।’
যদিও এই মেঘই রাতে ভিলেন হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাড়িয়ে দিয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। প্রসঙ্গত ভোরবেলা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। তখন আগের রাতের তাপমাত্রা মাপা হয়। এপ্রিল মাসে ২২ দিনই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের থেকে বেশি। ফলে রাতেও অস্বস্তিদায়ক ভ্যাপসা গরম। আবহাওয়া অধিকর্তা জানান, মেঘের জন্য রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণ হয়নি। ফলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেশিই থেকে গিয়েছে। কোনও কোনও দিন তো সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ বা ২৯ ডিগ্রি পর্যন্ত ছুঁয়েছে। উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসে কলকাতায় স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিন্তু থাকে ২৫.৩ ডিগ্রি। আর গড় স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ৩৫.৩ ডিগ্রি। কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে গরমের প্রবণতা মোটামুটি এরকমই ছিল। পশ্চিমাঞ্চলের কোনও কোনও জায়গায় কয়েকদিন তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
মনোরম গরমের এপ্রিল পেরিয়ে মে মাসে পা। প্রকৃতি কি বদলা দিয়ে তাপমাত্রার রেগুলেটর বাড়িয়ে দেবে? নাকি মনোরমই রাখবে গরম পরিস্থিতি? কলকাতার মুখে একটাই কথা-মেঘ দে পানি দে।