


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: উত্তরকাশীর ধারালির পর এবার জম্মু ও কাশ্মীর কিস্তওয়ার। মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বানে বিধ্বস্ত কিস্তওয়ার। বৃহস্পতিবারের এই বিপর্যয়ে প্রাণ গেল দুই সিআইএসলএফ জওয়ান অন্তত ৫০ জনের। এদিন দুপুরে চশোতি গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টি নামে। এরপরই হড়পা বানে ভেসে যায় এলাকা। দ্রুত উদ্ধার কাজে নামে বিপর্যয় মোকাবিলা দল, সেনা ও পুলিস কর্মীরা। শেষ খবর খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় ২০০ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এই বিপর্যয়ের পর জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। দুর্গতদের যাবতীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রাণহানিতে শোকপ্রকাশ করে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোকপ্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। বিপর্যয়ে ভেসে গিয়েছে ১০টি বাড়ি, ৪টি সরকারি অফিস ও সেতু।
কাশ্মীরের বিখ্যাত মাচিল মাতা তীর্থযাত্রা শুরু হয় চশোতি থেকে। এখান থেকেই সাড়ে ৮ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যেতে হয় মন্দিরে। তীর্থযাত্রার জন্য এদিন চশোতিতে জড়ো হয়েছিলেন বহু পুণ্যার্থী। দুপুর ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যে মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে হড়পা বান নামে। প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যায় পুণ্যার্থীদের বেশ কয়েকটি তাঁবু এবং একটি কমিউনিটি কিচেন। একটি সেনার আউটপোস্ট সহ বেশ কয়েকটি দোকান এবং বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার কাজে নামে সেনাবাহিনী, পুলিস, রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। উদ্ধারকাজে নামানো হয় একাধিক হেলিকপ্টার। পাশাপাশি একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে প্রশাসন। চালু করা হয়েছে একাধিক হেল্পলাইন নম্বর। মৃতদের মধ্যে রয়েছে দুই সিআইএসএফ জাওয়ান। তীর্থযাত্রা উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা। বিপর্যয়ের পর তীর্থযাত্রা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। বিপর্যয়ের পর জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধার কাজে নামানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের যাবতীয় সাহায্য করবে।’