সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পাঁচলা বিধানসভার পোলগুস্তিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচন ঘিরে মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজনা ছড়াল জগৎবল্লভপুরে। অভিযোগ, এদিন প্রধান নির্বাচনের পর তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের একাংশের হাতাহাতি বেধে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। নামানো হয় র্যাফ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পোলগুস্তিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন দাপুটে নেতা মহম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে শেখ নিজামুদ্দিন। রাজ্য বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা। ভোটাভুটিতে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন ছিল। আর এই প্রধান নির্বাচনকে ঘিরেই অশান্তির সূত্রপাত। গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সংখ্যা ২০। সকলেই তৃণমূলের। এদিনের ভোটাভুটিতে ১৭ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সকলেই মহুয়া মাইতিকে প্রধান হিসাবে সমর্থন করেন এবং তিনি প্রধান নির্বাচিত হন।
এদিন, সকাল থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছিল। তৃণমূলের পাশাপাশি কয়োকশো গ্রামবাসী পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে ভিড় করেছিলেন। আর প্রধান নির্বাচনের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। এরপরেই তৃণমূল কর্মী ও আইএসএফ কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে হাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মীরা তাদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করেছে।
যদিও তৃণমূল তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক বলেন, পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য না থাকলেও তারা পছন্দের ব্যক্তিকে প্রধান করতে চেয়েছিল। সেটা হয়নি বলেই গোলমাল পাকিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি নেতা মোহিত ঘাঁটি বলেন, ওখানে আমাদের সদস্য নেই। সুতরাং আমাদের নাক গলাতে যাওয়ার দরকার নেই। তার দাবি ইব্রাহিম ও গুলশান মল্লিকের উপর মানুষ ক্ষুব্ধ। তারাই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, আইএসএফ নেতা সাবির আলির বক্তব্য, আমাদের ওখানে কোনো সদস্য নেই। আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।