Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেশপুরে বিজেপির হাতাহাতি দুই গোষ্ঠীর

সরকার বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি কেশপুরের রাজনৈতিক হিংসার ছবি! ফের বিজেপির দুই গোষ্ঠীর কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল কেশপুরের থাহুর এলাকা।

কেশপুরে বিজেপির হাতাহাতি দুই গোষ্ঠীর
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: সরকার বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি কেশপুরের রাজনৈতিক হিংসার ছবি! ফের বিজেপির দুই গোষ্ঠীর কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল কেশপুরের থাহুর এলাকা। দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার ঘটনার একটি ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যদিও ভাইরাল ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার থাহুর এলাকায় একটি দলীয় কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রবিবার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে ব্যাপক হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, এরপর আচমকাই এক গোষ্ঠীর লোকজন অপর গোষ্ঠীর কর্মীদের উপর হামলা চালায়। বাঁশ ও লাঠি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, গ্রামের রাস্তায় বহু মানুষ ছোটাছুটি করছেন। বেশ কয়েকজনের হাতে লাঠি। সেই লাঠিতে রয়েছে গেরুয়া পতাকাও। ভিডিওতে কয়েকজনকে উত্তেজিতভাবে একে অপরকে মারধরের জন্য উসকানি দিতেও শোনা যাচ্ছে। একসময় কেশপুর ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত থাকত বিস্তীর্ণ এলাকা। গুলি-বোমার শব্দে আতঙ্কিত হতেন সাধারণ মানুষ। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পরিস্থিতির কিছুটা বদল হলেও তৃণমূল জমানাতেও একাধিকবার গোষ্ঠী সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপির অন্দরের কোন্দল ঘিরে ফের সেই পুরনো আতঙ্কের ছায়া দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সত্যিই বদলেছে কেশপুর? এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, যাঁরা আগে সিপিএম করতেন, তাঁদের অনেকেই এখন বিজেপিতে এসেছেন। দুই গোষ্ঠীই এলাকায় নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। অভিযোগ, এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগও বাড়ছে। বিজেপির এক নেতার দাবি, এখন সবাই সবাইকে নব্য বিজেপি বলছে। এক গোষ্ঠীর নেতারা অন্য গোষ্ঠীর লোকজনকে সামনে পেলেই মারধর করছেন। জেলা নেতৃত্বেরও নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ৪মে তারিখের পর থেকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।  কেশপুরের বিজেপি নেতা তন্ময় ঘোষের কটাক্ষ, নামধারী বিজেপিরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আগে তৃণমূল জমানায় যারা বিজেপির উপর অত্যাচার করেছিল, ৪ মে-র পর তারাই বিজেপিতে ঢুকে ফের একই কাজ করছে। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয়কৃষ্ণ প্রধান বলেন, কেশপুরজুড়ে নব্য বিজেপিরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছে। তোলাবাজি ও ভয় দেখানো চলছে। প্রকৃত বিজেপি কর্মীদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদের দাপট চলতে থাকলে কেশপুরের অবস্থা তৃণমূল ও সিপিএম আমলের মতোই হবে।

Advertisement

তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, বিজেপির বড় নেতারা গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করার কথা বললেও বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না। মাঝেমধ্যেই কেশপুর থেকে তোলাবাজি ও অশান্তির অভিযোগ আসছে। কেশপুরকে ফের অশান্ত হতে দেওয়া যাবে না। পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিক।  ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ