সংবাদদাতা, বনগাঁ: মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবার কর্মসূচিতে আবেদন করতেই বরুণ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় তৎপর হল রাজ্য সরকার। গত শনিবার বরুণের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে ভাইয়ের খুনের তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার গাইঘাটায় বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে আসে দুই সদস্যের সিআইডির প্রতিনিধি দল। এদিন দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস, দাদা অসিত বিশ্বাস সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সিআইডি আধিকারিকরা। মৃত শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ ছিলেন। এবিষয়ে বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, ভাইয়ের খুনের উপযুক্ত বিচার পেতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করে এসেছি। বিগত সরকার আমাদের আবেদনে তেমন সাড়া দেয়নি। নতুন সরকার আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছে। আমরা খুশি।
দুই সদস্যের সিআইডি আধিকারিক দল এদিন বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে ছিল প্রায় আড়াই ঘণ্টা। জানা গিয়েছে, এদিন মৃত বরুণের সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আধিকারিকরা। এছাড়া নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন তাঁরা। বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস বলেন, আজ সিআইডি আধিকারিকরা এসেছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। আমরা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন তদন্তের উপর ভরসা রাখতে। আমরা তাঁদের কথায় আশ্বস্ত বোধ করছি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। সুটিয়া অঞ্চলে সংঘটিত ধারাবাহিক নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন। এলাকার মানুষকে সংগঠিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে তিনি দ্রুত পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর সেই আন্দোলন বহু নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছিল বলেও মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন খুনের পুনঃতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় খুশি পরিবারের সদস্যরা।



