Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাষের জমিতে জমেছে বালি, খ্যাতি হারিয়েছে রণপুরের সুখ্যাত ফুলকপি  

চাষের জমিতে জমেছে বালি, খ্যাতি হারিয়েছে রণপুরের সুখ্যাত ফুলকপি
 
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, সিউড়ি: একসময় বীরভূমের রণপুরের ফুলকপির খ্যাতি ছিল বাংলাজুড়ে। শীত পড়তেই বাজারে এই ফুলকপি ওঠার অপেক্ষায় থাকতেন রাজ্যের মানুষ। কিন্তু এখন সেই রণপুরের চাষিরাই মুখে ফিরিয়েছেন ফুলকপি চাষ থেকে। তাঁদের অভিযোগ, ময়ূরাক্ষী তীরবর্তী এই রণপুর গ্রামের চাষিদের বেশিরভাগ জমিতে বালির স্তর পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি এই নদীর ঘাট থেকে অবৈজ্ঞানিকভাবে দেদার বালির উত্তোলন চাষের জন্য ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে এলাকার চাষিদেরই একাংশ চাষ ছেড়ে অন্যের দোকানে কাজ করছেন বা অন্য কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। 
Advertisement
জেলার সিউড়ি-১ নম্বর ব্লকের খটঙ্গা পঞ্চায়েত এলাকার রনপুর, তারাপুর ইত্যাদি গ্রামগুলিতে একসময় শীতের মরশুমে দেদার চাষ হতো ফুলকপি, বাঁধাকপির। এখানকার চাষিদের মতে একসময় এই রণপুরের ফুলকপি বাজারে আসার জন্য অপেক্ষা করতেন জেলার মানুষ। এই ফুলকপির স্বাদ ও রূপ ছিল নামকরা। শুধু বীরভূম নয়, প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড রাজ্যেও এই ফুলকপি বিক্রি করতেন এবং একটা বড় লাভের মুখ দেখতেন চাষিরা। জেলার সব্জি বাজারে রণপুরের ফুলকপি নামলেই অন্যান্য জাতের ফুলকপি কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ত ক্রেতাদের কাছে। কিন্তু এখন এই এলাকার চাষিরা আর ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। চাষিদের একাংশের অভিযোগ, এই রণপুর এলাকার পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ময়ূরাক্ষী নদী। আর সেই নদীর বালিঘাট থেকে বৈধ ও অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বালি তুলে নেওয়া হচ্ছে। যার জেরে আশপাশ এলাকায় প্রচুর চাষের জমি বালির স্তর পড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। সেইসব জমিতে এখন আর কোনও কিছু চাষের উপযুক্ত অবস্থায় নেই। তাছাড়া এবছর শীতের মরশুমে তিলপাড়া ব্যারেজ মেরামতের কারণে ময়ূরাক্ষী নদী জলশূন্য করে দিয়েছে সেচদপ্তর। ফলে চাষের ক্ষেত্রে এই এলাকায় জলের কিছুটা হলেও সমস্যা রয়েছে। তাই এবছর বেশিরভাগ চাষিই ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখায়নি। তবে কিছু চাষি সাবমার্সিবলের মাধ্যমে জল দিয়ে ফুলকপি চাষ করেছেন। চাষিদের অভিযোগ, আগে যে হারে রণপুরে ফুলকপি চাষ হতো এখন তা না হওয়ায় অনেক চাষি অল্প দামে জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই চাষিরা চাষাবাদ ছেড়ে দিয়ে অন্যের দোকানে কাজ করছেন অথবা অন্য কোনও পেশায় নিযুক্ত হচ্ছেন। তাই এলাকার চাষিদের দাবি, এই রণপুরের ফুলকপি চাষের রমরমা ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসন ও কৃষিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক। এইসব এলাকায় অবৈধভাবে নদীঘাটের বালি উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রণপুরের একজন ফুলকপি চাষি রাবণ দলুই বলেন, এই এলাকার বেশিরভাগ চাষি ফুলকপি চাষ থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন। বালি জমা জমিগুলি উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাছাড়া যেটুকু জমি রয়েছে তাতে চাষের জন্য জল পাচ্ছি না। 
তবে, কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের অন্যান্য জায়গায় যেখানে এই মরশুমে চাষিরা ফুলকপি চাষ করেন, তাঁরা অধিকাংশই করেছেন। সিউড়ি-১ ব্লকের নগরী গ্রামের এক ফুলকপি চাষি মহেশ্বর দোলুই বলেন, আমরা এবছর প্রায়ই ৪০০০ ফুলকপি চাষ করেছি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার চাষ ভালোই হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ