লখনউ: ‘গণশত্রু’ ছবিতে সত্যজিৎ রায় দেখিয়েছিলেন চরণামৃতের ‘মহিমা’। আবার ‘দেবতার জন্ম’ দেখেছিলেন শিবরাম চক্রবর্তী। পাথর থেকে বাবা ত্রিলোকনাথ হয়ে ওঠার জার্নি তুলে ধরেছিলেন তাঁর লেখায়। এবার বাঁকেবিহারীর মন্দির দেখাল, এসির জল হয়ে উঠতে পারে চরণামৃত! বৃন্দাবনের এই মন্দির এমনই অন্ধবিশ্বাসের সাক্ষী থাকল। মন্দিরের অন্দরের একটি ভিডিও সামনে এসেছে। মন্দিরে হাতির একটি ভাস্কর্য থেকে এসির জল বেরচ্ছিল। ফোঁটা ফোঁটা সেই জলবিন্দুকে শ্রী কৃষ্ণের চরণামৃত ভেবে খাওয়ার ধূম পড়ে যায় পূণ্যার্থীদের মধ্যে। লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন তাঁরা। ভিডিওতে অনেককেই নলের মধ্যে মাথা ঠেকাতে দেখা গিয়েছে। কেউ আবার কাপে করে সংগ্রহ করছেন ‘পবিত্র’ জল। কেউ আবার একবার জলবিন্দু হাতে নেওয়ার জন্য উৎসুক। এরইমধ্যে এক দর্শনার্থী ভুল ভাঙাতে চেষ্টা করেন। সাবধান করে তিনি বলেন, ‘এটা এয়ার কন্ডিশনার থেকে বেরনো জল। শ্রী কৃষ্ণের চরণামৃত নয় । মন্দিরের পুরোহিতরাও তো একথা বলছেন।’ তবে কে শোনে কার কথা! পুণ্য অর্জনের জন্য ‘সতর্কবাণী’ উপেক্ষা করেই চলতে থাকে চরণামৃত সংগ্রহ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্ন উঠছে, এসির জলকে কোন যুক্তিতে চরণামৃত ভেবে ফেললেন পুণ্যার্থীরা? ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে মন্দিরের কেয়ারটেকার আশিস গোস্বামী এব্যাপারে গুজবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষকে ভুল ধারনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। মন্দিরের গর্ভগৃহে বসানো এসি থেকে জল পড়ছিল। এটা কখনওই চরণামৃত নয়। তিনি আরও বলেন, চরণামৃত শুধু মন্দিরের ভিতরেই পাওয়া যায়।
ছবি সমাজমাধ্যমের সৌজন্যে।



