সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ওপার বাংলায় থাকার সময় মহিষ বলি দিয়ে শুরু হয়েছিল চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপুজো। ওপার বাংলার ময়মনসিংহ জেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামে চৌধুরীদের এই পুজোর সূচনা করেছিলেন স্বর্গীয় মনমোহন চৌধুরী। দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে চৌধুরীরা চলে আসেন এপার বাংলায় আলিপুরদুয়ার রেল জংশনের লিচুতলায়।
বাংলাদেশ থেকে আসার সময় চৌধুরীরা মায়ের পুজোর কাঠামো ও প্রতিমার মাটি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। সেই পুরনো কাঠামো ও মাটিতে আজও মৃন্ময়ী মা পূজিত হন চৌধুরী বাড়িতে। তবে বাড়ির মহিলাদের আপত্তিতে এপার বাংলায় মহিষ বলি দেওয়ার প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। যদিও সেই প্রথা ধরে রাখতে প্রতীকী হিসেবে এখন চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়।
বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম লিচুতলার এই চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো। নিষ্ঠা, প্রাচীন রীতি, সাবেকিয়ানা ও কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনে আজও উজ্জ্বল চৌধুরী বংশের পারিবারিক দুর্গাপুজো। চৌধুরীদের এই পারবারিক দুর্গাপুজো এবছর ১১৫ বছরে পড়বে। পুজোর সেই প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে।
দু’মাস আগে থেকে চৌধুরী বাড়িতে মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পিতৃপক্ষ শুরুর দিন থেকে পুজো শুরুর দিন পর্যন্ত চৌধুরী বাড়ির সদস্যরা বাড়ির পুকুরে স্নান করেন। স্বর্গীয় মনমোহন চৌধুরীর ১০ ছেলে। এর মধ্যে পাঁচ ছেলে এখনও বর্তমান। বাড়ির সদস্য নবীন চৌধুরী বলেন, মহিষ বলি দেওয়ার প্রথা তুলে দেওয়া হলেও আজও প্রতীকী হিসেবে মায়ের পুজোয় শুধু চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। সত্তরের দশকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ও তাঁর স্ত্রী মায়াদেবী লিচুতলায় একবার চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজোয় যোগ দিয়েছিলেন। সস্ত্রীক অষ্টমীতে অঞ্জলিও দিয়েছিলেন। মায়ের ভোগও খেয়ে গিয়েছিলেন। অন্যান্য বারোয়ারি পুজোর মতো ধুমধাম করে চৌধুরী বাড়ির দুর্গা প্রতিমারও দশমীতে বাড়ির পুকুরে নিরঞ্জন হয়।
চাকরি ও ব্যবসার সূত্রে চৌধুরীদের নবীন প্রজন্ম ও আত্মীয়স্বজনরা দেশবিদেশে ছড়িয়ে আছেন। পারিবারিক দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে চৌধুরী বাড়িতে পুজোর ক’দিন সবাই বাড়িতে চলে আসেন। পারিবারিক পুনর্মিলন উৎসবের সঙ্গে তাঁরা সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও শামিল হন। তাতে যোগ দেন এলাকার লোকজন। তখন চৌধুরীদের পারিবারিক পুজো আক্ষরিক অর্থেই সর্বজনীন হয়ে ওঠে। নিজস্ব চিত্র।