Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চীন থেকে ইস্পাত আনতে সমস্যা, তিন বছর ধরে থমকে পলতায় গঙ্গাপাড় বাঁধানোর কাজ

চীন থেকে ইস্পাত আনতে সমস্যা, তিন বছর ধরে থমকে পলতায় গঙ্গাপাড় বাঁধানোর কাজ
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে যাচ্ছে পলতার গঙ্গাপাড়ের জমি। তার জেরে বিপদের মুখে কলকাতা পুরসভার জলপ্রকল্প। বিপর্যয় ঠেকাতে পলতার ইন্দিরা গান্ধী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট লাগোয়া প্রায় দু’কিলোমিটার (১.৮ কিমি) গঙ্গাপাড় বাঁধাইয়ের কাজ হাতে নিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। সেই লোহার পাঁচিল (পোশাকি নাম ইন্টারলকিং শিট পাইল) তোলার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। কিন্তু, কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, কাজের জন্য চীন থেকে বিশেষ ধরনের ইস্পাত নিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু, করোনার পর তার আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। তারপরে আর কাজ এগয়নি। নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে পুরসভার চিঠিচাপাটি হয়েই চলেছে। তাতে, একদিকে যেমন প্রকল্পের খরচবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে, তেমনই গঙ্গায় লাগাতার ভাঙনের জেরে জলপ্রকল্প নিয়ে দুশিন্তাও বাড়ছে পুরকর্তাদের।
Advertisement
গঙ্গা পাড়ে ধস নামায় বাম আমলেই পলতা জল প্রকল্প লাগোয়া গঙ্গাপাড় বাঁধানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু আসল কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। বরাদ্দ করা হয় ১২৫ কোটি টাকা। ‘শিট পাইলিং’ পদ্ধতিতে তৈরি দেওয়ালের গড় উচ্চতা ৩০ ফুট হবে। কিন্তু, প্রায় ২ কিমির মধ্যে 
মাত্র ৬০০ মিটার গঙ্গাপাড় বাঁধানো গিয়েছে। এই ক্ষেত্রে সিমেন্টের ব্যবহার করা হচ্ছে না। সবটাই লোহার বিম আর পাতের কাজ। কমবেশি ৬০০০ মেট্রিক টন 
লোহার পাত দরকার। ফেলা হচ্ছে বোল্ডারও। ২০২১ সালের মধ্যে ওই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা, লকডাউনের জন্য কাজ পিছিয়ে যায়।
এক আধিকারিকের কথায়, এই কাজ করা গেলে আগামী ৫০ বছর জলপ্রকল্প সংলগ্ন গঙ্গাপাড়ে ভাঙন হবে না। কিন্তু, করোনা পরবর্তী সময়ে চীন থেকে ইস্পাতের পাত আমদানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই বাকি কাজ করতেও সমস্যা হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের অধিগৃহীত একটি সংস্থা এই পাড় বাঁধাইয়ের কাজ করছে। কিন্তু, চীনের ওই ইস্পাত ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়। তাই, কাজ যেন তাড়াতাড়ি শুরু করা হয়, তার জন্য বার বার ওই সংস্থাকে পুরসভা চিঠি দিচ্ছে। কিন্তু, এখনও কোনও আশার আলো দেখা যায়নি। এদিকে, জলপ্রকল্প লাগোয়া গঙ্গার ভাঙন যে গতিতে হচ্ছে, তাতে দ্রুত কাজ শেষ না করলে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে, জানাচ্ছেন পুরকর্তারা।  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ