Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

চলতি সপ্তাহেই অবসর, চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে রাজ্যের ৩ মামলার ফয়সালা নিয়ে সংশয়

চলতি সপ্তাহেই অবসর, চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে রাজ্যের ৩ মামলার ফয়সালা নিয়ে সংশয়
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রবিবার ১০ নভেম্বর দেশের ৫০তম প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড়ের মেয়াদ শেষ। ফলে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে আর মাত্র পাঁচদিন মামলা শুনবেন তিনি। তাই শুক্রবারের মধ্যে আর জি কর হোক বা স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর চাকরির ভবিষ্যৎ কিংবা ১২ লক্ষ ওবিসি শসংসাপত্র বাতিলের মতো বাংলার হাইপ্রোফাইল মামলার আদৌ নিষ্পত্তি হবে কি, ওয়াকিবহাল মহলে উঠছে প্রশ্ন। আগামী কাল, মঙ্গলবার, উল্লেখিত তিনটি মামলাই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাবদ্ধ হয়েছে। 
Advertisement
আর জি কর মামলাটি স্বতঃপ্রণোদিত গ্রহণ করেছিলেন বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। এই মামলায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। যদিও সিবিআই এখনও পর্যন্ত নতুন করে বাড়তি কোনও রিপোর্ট দিতে পারেনি। তবে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বেড়েছে। রাজ্য সরকার যাবতীয় ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। যার সিংহভাগই ‘সিভিক’ বিষয়। কিন্তু মূল মামলা, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট যে স্বতঃপ্রণোদিত ‘ক্রিমিনাল’ মামলা গ্রহণ করেছে, তার নিষ্পত্তির নির্দেশ আদৌ কি নিজের মেয়াদকালে দিয়ে যেতে পারবেন চন্দ্রচূড়? প্রশ্ন ওয়াকিবহাল মহলে। ২০ আগস্ট থেকে মামলা চলছে।  
অন্যদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি হারাতে বসা ২৫ হাজার ৭৫৩ জনেরই বা ভবিষ্যৎ কী? কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপর ‘স্থগিতাদেশ’ দিয়েছেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। ফলে এখনও কারও চাকরি যায়নি। আপাতত স্বস্তিতে নবম-দ্বাদশের সহকারী শিক্ষক ও গ্রুপ সি এবং ডি’র মতো অশিক্ষক কর্মীরা। মোট ১১৭টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মঙ্গলবার শুনানির জন্য তালিকাবদ্ধ এই মামলায় আবেদনকারীদের অন্যতম দুই আইনজীবী জয়দীপ মজুমদার এবং পার্থসারথি দেব বর্মনের মন্তব্য, চারদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া কঠিন। তবে আশাকরি দেশের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় মামলায় যা অবস্থান নিয়েছেন, সেটিই শেষমেশ বজায় থাকবে। অর্থাৎ চাকরি হারাতে হবে না। প্রধান বিচারপতি একবার মামলার শুনানির পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, এক লহমায় এভাবে এতজনের চাকরি চলে যেতে পারে না। গত ৭ মে এই মামলায় স্থগিতাদেশের পর থেকে সেভাবে শুনানি হয়নি।
অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র মামলায় এখনও পর্যন্ত যথাযথ শুনানিই হয়নি। কলকাতা হাইকোর্ট ১২ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দেননি বিচারপতি চন্দ্রচূড়। তবে রাজ্য সরকারের লিখিত বক্তব্য জানতে চেয়ে হলফনামা জমা দিতে বলেছেন। গত ৫ আগস্ট সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওবিসি তালিকাভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের বিষয়ে রাজ্যের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন হওয়ায় শংসাপত্রধারীদের কিছুটা স্বস্তি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে শুনানিই যে হচ্ছে না। তাই  চলতি সপ্তাহে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের দিকে তাকিয়ে বাংলা।
সম্পর্কিত সংবাদ