অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: মাদকের নেশার খরচ জোগাতেই চুরি, আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারে নেমেছিল ‘গ্যাংস অব জর্দা’র সদস্যরা। তাদের মধ্যে ধরা পড়েছে ছ’জন। জেরা করে পুলিস জানতে পেরেছে, ধৃতরা দিনের সারাক্ষণই মাদকের নেশায় চুর থাকে। আর মাদক সেবনে প্রচুর টাকা লাগে। সেটা জোগাড় করতে একের পর এক অপরাধ—চুরি-ছিনতাই থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শুধু চুরির জন্য পৃথক একটি টিম ছিল ধৃতদের। উদ্বৃত্ত টাকায় শখ পূরণ। শখ বলতে নামি-দামি বাইক কেনা। নিষিদ্ধপল্লিতে রাতভর ফূর্তি। পুলিসের অভিযান থেকে বাঁচতে সোর্সও রেখেছিল ধৃতরা। মোটা টাকার মাইনেও দিত তাদের।
Advertisement
চুলের কারবারে বেলডাঙার নামডাক রয়েছে। রেজিনগর, নওদাজুড়ে ঘরে ঘরে চুলের কুটিরশিল্প। তাকে ভর করে রুজিরুটি ছিল বহু মানুষের। চীন, ইতালি সহ অন্যান্য দেশ ছিল চুল রপ্তানির বড় বাজার। যাঁদের পুঁজি ছিল, তাঁরা চুল প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট গড়তেন। সামান্য লগ্নিতে বিরাট লাভ। ক’বছরেই ফুলেফুঁপে ওঠতেন। যাঁদের পুঁজি ছিল না, তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে চুল সংগ্রহ করতেন। সেগুলি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দিব্যি চলছিল বেলডাঙ্গার অর্থনৈতিক জীবন। কিন্তু, ক’বছর হল সেই ছবি আমূল বদলে গিয়েছে। বদলে যাওয়ার পিছনে ভিলেন মাদক। সুনিশ্চিত আয়ের পথ ছেড়ে যুব সমাজের একটা বড় অংশ মাদকের নেশায় ডুব দিয়েছে। চুল কারবারের জায়গা দখল করেছে মাদকের কারবার। ধৃত ওয়াজুল শেখ ওরফে জর্দা একদা চুল কারবারি ছিল। রোজগারপাতিও ভালোই হতো। তারপর মাদকের নেশা তাকে পেয়ে বসে। চুলের কারবার লাটে ওঠে। রোজদিন নেশার টাকা জোগাড় করতে বিকল্প আয়ের পথ খোঁজে। প্রথম দিকে দু’একটা চুরি। ধীরে ধীরে নিজেই একটি গ্যাং তৈরি করে। এলাকার নেশাড়ুরা ঢুকতে শুরু করে সেই গ্যাংয়ে। অল্প ক’দিনেই অপরাধ জগতে খ্যাতি! নাম হয় ‘গ্যাংস অব জর্দা’।
কিন্তু, চুরি-ছিনতাইয়ে কতই বা টাকা? দুষ্কর্মের চরিত্র বদল করে জর্দা। ঢুকে পড়ে আগ্নেয়াস্ত্রের পাচার কারবারে। কোনওরকমে হাতবদল করতে পারলেই মোটা টাকা। লোভ সামলাতে না পেরেই বিপদ ডেকে আনে নিজেই। গত ১৯ জানুয়ারি কাটোয়া-বোলপুর রোডের যতীনপুর মোড় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সাপ্লাই করতে গিয়ে জর্দা ও তার সঙ্গী তাহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দু’রাউণ্ড গুলি সহ একটি বাইক উদ্ধার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাকিদের খোঁজ মেলে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই বুদবুদ থেকে ধাওয়া করে জর্দা, টিলু শেখ ও আরিজুল শেখযে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। সেবার তারা কাটোয়া মহকুমার দুই থানা এলাকাতে দু’ দিনে অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হানা দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। ধৃত জর্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লালচাঁদ শেখ, টিলু শেখ, হাসেম শেখ ওরফে হাসান ও রাহুল শেখ নামের আরও চার শাগরেদকে পাকড়াও করা হয় দীঘা থেকে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর গ্যাং’য়ের মতোই কাহিনির পটভূমি তৈরি হয়েছে বেলেডাঙার মির্জাপুরে। চুরি, ছিনতাই, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার, মাদক কারবার কি নেই মির্জাপুরে! কাটোয়া থানার তদন্তকারীরা মির্জাপুরে পা রেখেই তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন। কাটোয়া শহরে দুষ্কর্ম করে নিশ্চিন্তে তারা মির্জাপুরে ফিরে যেতে পারলেই কুছ পরোয়া নেহি জর্দা গ্যাংয়ের।
কারণ, গ্রামেই ছড়িয়ে রয়েছে গ্যাংয়ের সোর্সরা। তারাই সজাগ করে দেয় জর্দা সহ তার শাগরেদদের। ফোনে কেউ বলে ‘মামা’ ঢুকেছে। কেউ বলে ‘ভাই’। ‘মামা’ মানে এসআই পদমর্যাদার পুলিস। ‘ভাই’ মানে সিভিক। ফোন পেয়ে দ্রুত গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা। খালি হাতে ফিরতে হয় পুলিসকে।
কিন্তু, চুরি-ছিনতাইয়ে কতই বা টাকা? দুষ্কর্মের চরিত্র বদল করে জর্দা। ঢুকে পড়ে আগ্নেয়াস্ত্রের পাচার কারবারে। কোনওরকমে হাতবদল করতে পারলেই মোটা টাকা। লোভ সামলাতে না পেরেই বিপদ ডেকে আনে নিজেই। গত ১৯ জানুয়ারি কাটোয়া-বোলপুর রোডের যতীনপুর মোড় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সাপ্লাই করতে গিয়ে জর্দা ও তার সঙ্গী তাহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দু’রাউণ্ড গুলি সহ একটি বাইক উদ্ধার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাকিদের খোঁজ মেলে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই বুদবুদ থেকে ধাওয়া করে জর্দা, টিলু শেখ ও আরিজুল শেখযে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। সেবার তারা কাটোয়া মহকুমার দুই থানা এলাকাতে দু’ দিনে অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হানা দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। ধৃত জর্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লালচাঁদ শেখ, টিলু শেখ, হাসেম শেখ ওরফে হাসান ও রাহুল শেখ নামের আরও চার শাগরেদকে পাকড়াও করা হয় দীঘা থেকে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর গ্যাং’য়ের মতোই কাহিনির পটভূমি তৈরি হয়েছে বেলেডাঙার মির্জাপুরে। চুরি, ছিনতাই, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার, মাদক কারবার কি নেই মির্জাপুরে! কাটোয়া থানার তদন্তকারীরা মির্জাপুরে পা রেখেই তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন। কাটোয়া শহরে দুষ্কর্ম করে নিশ্চিন্তে তারা মির্জাপুরে ফিরে যেতে পারলেই কুছ পরোয়া নেহি জর্দা গ্যাংয়ের।
কারণ, গ্রামেই ছড়িয়ে রয়েছে গ্যাংয়ের সোর্সরা। তারাই সজাগ করে দেয় জর্দা সহ তার শাগরেদদের। ফোনে কেউ বলে ‘মামা’ ঢুকেছে। কেউ বলে ‘ভাই’। ‘মামা’ মানে এসআই পদমর্যাদার পুলিস। ‘ভাই’ মানে সিভিক। ফোন পেয়ে দ্রুত গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা। খালি হাতে ফিরতে হয় পুলিসকে।



