Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসায় ‘গাফিলতি’, প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে কথা কর্তৃপক্ষের, জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল, ৭ দিনে রিপোর্ট তলব

চিকিৎসায় ‘গাফিলতি’, প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে কথা কর্তৃপক্ষের, জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল, ৭ দিনে রিপোর্ট তলব
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ নিয়ে প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে কথা বলল জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি সাতদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মেডিক্যালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ।
Advertisement
গত সোমবার জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতি নিয়ে সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কোতোয়ালি থানার নন্দনপুরের বাসিন্দা উত্তম মাতব্বর। তাঁর অভিযোগ, গত ২৯ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে সিজারে পুত্রসন্তান প্রসব করেন স্ত্রী। তখন তিনি সুস্থ ছিলেন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় পেটে ব্যথা। বর্তমানে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তাঁর স্ত্রী।
রোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গড়ে তদন্ত শুরু করেছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিন ওই তদন্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন মেডিক্যালের সুপার কল্যাণ খাঁ। কথা বলা হয় প্রসূতির পরিবারের সঙ্গেও। পরে সুপার বলেন, আমরা সাতদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি। ওই রোগী বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। আমরা ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করে কীভাবে তাঁর চিকিৎসায় সাহায্য করা যায় দেখছি।
এদিকে, কেন ওই প্রসূতির অবস্থা আচমকা সঙ্কটজনক হয়ে গেল তা বলতে পারছেন না জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের প্রসূতি বিভাগের প্রধান ডাঃ সোহিনী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ওই রোগী সুস্থই ছিল। কীভাবে এমনটা হল বুঝতে পারছি না।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ না করলেও প্রসূতির পরিবারের বক্তব্য, ঘটনার পিছনে স্যালাইন কাণ্ড যুক্ত থাকতে পারে। যদিও এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার। এদিন তিনি বলেন, আমরা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গেও কথা বলেছি। এর মধ্যে স্যালাইন সংক্রান্ত কোনও বিষয় নেই বলেই মনে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভেন্টিলেশনে থাকা ওই প্রসূতির এখন ডায়ালিসিস প্রয়োজন। কিন্তু ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীকে ডায়ালিসিস দেওয়ার মতো পরিকাঠামো নেই সেখানে। ফলে চিকিৎসা নিয়েও তৈরি হচ্ছে সঙ্কট। এদিকে, বুধবার স্বাস্থ্য বিষয়ক ইস্যুতে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে রিঙ্গার্স ল্যাকটেট (আরএল) স্যালাইন মিলছে না। রোগীদের তা বাইরে থেকে 
কিনতে হচ্ছে। আট দফা দাবিতে এদিন স্বাস্থ্য প্রশাসনকে স্মারকলিপিও দেয় তারা। যদিও মেডিক্যালের সুপারের দাবি, যেসব রোগীর আরএল স্যালাইন প্রয়োজন, সবাইকেই দেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ