নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষ হলেও এখনও ভিড় কমেনি আলিপুর চিড়িয়াখানায়। বৃহস্পতিবারও দেখা গিয়েছে, লোক সমাগম যথেষ্ট। শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। থিকথিকে ভিড় রাস্তাতেও। অদ্ভুতভাবে এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলিপুর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তারক্ষীরা। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের প্রশ্ন সামলাতে সামলাতে তাঁরা জর্জরিত। চিড়িয়াখানার কাছেই আলিপুর ক্যাম্পাস। সেখানকার গেটে পাহারা দেন যাঁরা তাঁরা রোজ লোক আটকাতে গিয়ে হয়রান। বাস থেকে নেমে বা হেঁটে এসে চিড়িয়াখানা না চিনতে পেরে অনেকেই ঢুকে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। রক্ষীরা তাঁদের আটকে ধরে ধরে রাস্তা চিনিয়ে পাঠাচ্ছেন চিড়িয়াখানায়।
Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তারক্ষী বললেন, গোটা শীতকালে এই হচ্ছে। গ্রাম থেকে আসা বহু মানুষ বুঝতে না পেরে এখানে ঢুকে পড়ছেন। জিজ্ঞেস করছেন, ‘বাঘটা কোথায় স্যর। কুমির কোথায় থাকে? এই দিক দিয়েই কি যেতে হয়?’ রক্ষীরা তাঁদের আটকাচ্ছেন। তারপর সঠিক রাস্তা চিনিয়ে দিচ্ছেন।’ অন্য এক রক্ষীর কথায়, ‘মোটামুটি দেখেই বুঝতে পারছি কারা চিড়িয়াখানা দেখতে এসেছেন। আমরা তখন বলে দিচ্ছি।’ কুলতলি থেকে নাতনিকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন কমল নস্কর। বললেন, ‘নাতনিকে চিড়িয়াখানা দেখালাম। ফেরার পথে দেখলাম, এখানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ওকে একবার দেখিয়ে নিয়ে গেলাম। বললাম, ভালো পড়াশোনা করলে এখানে চান্স পাবে।’ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়া বললেন, ‘দেখছি এখন অনেকেই চিড়িয়াখানার বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ছেন।’ তবে রক্ষীরা যে খুব বিরক্ত তা কিন্তু নয়। তাঁরা উল্টে বলেন, গ্রাম থেকে অনেকে আসছেন। বুঝতে পারছেন না। তাই আমরা বলে দিচ্ছি। যতদিন ভিড় থাকবে, এরকম চলবে।



